পিরোজপুরের জিয়ানগরে হামে আক্রান্ত হয়ে এক বছর বয়সী রাইয়ান নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং চার বছর বয়সী বোন খাদিজা আক্তারও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। নিহত রাইয়ান জিয়ানগর উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের সাঈদখালী আবাসনের বাসিন্দা সুমন মোড়লের ছেলে।
শুক্রবার (২২ মে) দিবাগত রাত ১ টার দিকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাইয়ানের মৃত্যু হয়। বিষয়টি আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান এই প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুমন মোড়লের গ্রামের বাড়ি যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার রুপদা গ্রামে। সুমন মোড়ল ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের চাড়াখালী গ্রামের মৃত তৈয়ব আলী খানের মেয়ে শারমিন আক্তারকে বিয়ে করে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছেন।
নিহতের পরিবার জানায়, কয়েকদিন ধরে রাইয়ানের জ্বর, শরীরে দানা ওঠা এবং দুর্বলতাসহ হামের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, একই রোগে আক্রান্ত তার চার বছর বয়সী বোন খাদিজা আক্তারও বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।
রাইয়ানের বাবা সুমন মোড়ল বলেন, “কয়েকদিন ধরে আমার ছেলে-মেয়ে দুজনই অসুস্থ ছিল। ছেলের অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নিয়ে যাই। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। আমার মেয়েও এখন খুবই অসুস্থ।”
জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “এলাকায় হামের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে শিশুদের টিকা গ্রহণে সচেতন করা হচ্ছে। কোনো শিশু যেন হামের টিকা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি। যেসব শিশু এখনও টিকা নেয়নি, তাদের অভিভাবকদের দ্রুত টিকা দেওয়ার আহ্বান জানান।
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান জানান, সন্দেহভাজন হাম নিয়ে শিশুটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল সাথে নিউমোনিয়ারও উপসর্গ ছিল, তবে হামের সেম্পল পাঠানোর আগেই শিশুটি মারা গিয়েছে। এর আগে হামে আক্রান্ত মঠবাড়িয়ার একটি শিশু বরিশাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছিল। এখন পর্যন্ত জেলায় সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪০ জনে।
সিভিল সার্জন আরও বলেন, “হাম রোগীর সংখ্যা বাড়লেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। তবে এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে এবং শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করতে হবে।”
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, কোনো শিশুর জ্বর, শরীরে র্যাশ বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। এর আগে গত মাসের ৫ এপ্রিল জেলায় ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ হাম টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এলাকাতেও সৃষ্টি হয়েছে উদ্বেগ ও শোকাবহ পরিবেশ।
এম