নারী নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তে ১০ হাজার টাকা ঘুষ চাইলেন এসআই

  • শরীয়তপুর প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

শরীয়তপুর: শরীয়তপুরের জাজিরায় এক নারীর লিখিত অভিযোগ তদন্তের জন্য ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত একটি কথোপকথনের ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কথোপকথনের একপর্যায়ে ওই পুলিশ সদস্য নিজের বিকাশ নম্বর উল্লেখ করে সেখানে টাকা পাঠাতে বলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দোষীর বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর পরিবার।

ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের মালেক শেখের মেয়ে ইতি আক্তারের সঙ্গে জাজিরা পৌরসভার সোনার দেউল এলাকার নূর মোহাম্মদ শেখের ছেলে সাত্তার শেখের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের দাবিতে ইতিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক ও স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

সর্বশেষ গত ১৭ আগস্ট রাতে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা ঝগড়াঝাটির একপর্যায়ে ইতি আক্তারকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ তাঁর পরিবারের।

এ ঘটনায় গত ৪ সেপ্টেম্বর ইতি আক্তার তাঁর স্বামী সাত্তার শেখসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পারিবারিক বিরোধ, শারীরিক নির্যাতন ও যৌতুক দাবির অভিযোগে জাজিরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগটি গ্রহণের পর এর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় জাজিরা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলামকে।

অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে বাদীপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এসআই রফিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি ভুক্তভোগীর কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন ইতি আক্তার। পরে বিষয়টি নিয়ে তাঁর এক নিকটাত্মীয় সৌদি প্রবাসী দুলাল মোড়লের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন ওই পুলিশ সদস্য। কথোপকথনের একপর্যায়ে টাকা পাঠানোর জন্য নিজের বিকাশ নম্বরও দেন এসআই রফিকুল ইসলাম বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে ওই কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পুলিশ সদস্যের চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় তাঁর অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করা হচ্ছে না।

ইতি আক্তার বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই আমার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য শারীরিক নির্যাতন করতেন। কয়েকদিন আগে আমাকে মারধর করলে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করি। অভিযোগটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই রফিকুল স্যারকে। তিনি আমার কাছে টাকা চাইলে আমি তাঁকে বলি, আমার এক ভাই প্রবাসে থাকেন, তিনি টাকা দেবেন। পরে তাঁর সঙ্গে কথা বলে বিকাশ নম্বর দেন। আমার ভাই তাঁকে টাকা না দেওয়ায় আমাদের কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না। ঘটনার তদন্তও ঠিকভাবে করছেন না। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

ইতির মা খাদিজা বেগম বলেন, ‘আমাদের কাছে টাকা চাইলে পুলিশকে বলি, আমাদের কাছে টাকা নেই। আমার ভাতিজা দুলাল বিদেশে থাকে, সে টাকা দেবে। পরে দুলাল ওই পুলিশকে টাকা না দেওয়ায় আমার মেয়ের ঘটনার কোনো সমাধান করে দেয়নি। আমরা থানায় এলেও তারা আমাদের গুরুত্ব দেয় না।’

তবে টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত এসআই রফিকুল ইসলাম। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি টাকা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে ক্যামেরার সামনে এ বিষয়ে ‘ওসি জানেন’ বলে বক্তব্য না দিয়ে নিজের কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান তিনি।

বিষয়টি নিয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ্ আহাম্মদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দোহাই দিয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জাকারিয়া রহমান বলেন, ‘ভুক্তভোগী কেউ আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি এবং খতিয়ে দেখছি। সত্যতা পেলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পিএস