চাকরি হারিয়ে রাজপথে এইচএসবিসির কর্মীরা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

এইচএসবিসি বাংলাদেশের রিটেইল ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধের জেরে চাকরি হারিয়েছেন ২৫৭ জন কর্মকর্তা। ব্যাংকটির এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পর এবার প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে বিভ্রান্ত করা এবং কর্মীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিজেদের অধিকার আদায়ে এবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরব হয়েছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের মিলনায়তনে এইচএসবিসির বঞ্চিত কর্মকর্তাদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আলমগীর কবির। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান, মনজুর মোর্শেদ, সুবক্ত গিন মাহমুদ, আবু রায়হান এবং বঞ্চিত কর্মকর্তাদের আইনজীবী মোকাররাম হোসেন সাকলাইন।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ রিটেইল ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধের নামে ২৫৭ জন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হলেও শ্রম আইন অনুযায়ী ছাঁটাইয়ের কোনো বিধান অনুসরণ করা হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এই কর্মকর্তাদের ‘ছাঁটাইকৃত কর্মকর্তা’ হিসেবে দেখানো হলেও, বাস্তবে কর্মীদের হাতে দেওয়া হয়েছে সাধারণ চাকরিচ্যুতির চিঠি। এর মাধ্যমে ছাঁটাই-সংক্রান্ত আইনগত সুবিধা ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ থেকে কর্মীদের সম্পূর্ণ বঞ্চিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এইচএসবিসি বাংলাদেশ ব্যাংক ও শ্রম আইনের একাধিক ধারা লঙ্ঘন করেছে। প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে অর্থ কেটে নেওয়া, ঋণ সমন্বয়ের নামে হয়রানি, পুনর্নিয়োগে বৈষম্য, হোম লোনের সুদের হার বাড়িয়ে দেওয়া এবং রিলিজ লেটার আটকে রাখার মতো বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয় তুলে ধরেন বক্তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় একই ধরনের পুনর্গঠন কার্যক্রমের সময় কর্মীদের তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও বাংলাদেশের কর্মকর্তারা চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তারা সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডাইফি) প্রতি বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-সম্পূর্ণ ছাঁটাই প্রক্রিয়া আইনগতভাবে পর্যালোচনা করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ন্যায্য সেভারেন্স ও অন্যান্য প্রাপ্য পরিশোধ করা এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড ও পাওনা থেকে কেটে নেওয়া অর্থ সুদ ও জরিমানাসহ ফেরত দেওয়া। সংবাদ সম্মেলন শেষে বক্তারা পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করে প্রকৃত তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।

এসএইচ