সব স্তরের শিক্ষাবৃত্তি দ্বিগুণের উদ্যোগ, বাড়ছে এককালীন অনুদানও

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম

দেশের প্রান্তিক ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় টিকিয়ে রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। প্রাথমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত সব স্তরের শিক্ষাবৃত্তির হার দ্বিগুণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে বার্ষিক এককালীন অনুদান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর শিক্ষাবৃত্তির হার পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি আর্থিক সহায়তা পাবেন।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রাথমিক স্তরে মেধাবৃত্তি মাসিক ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ২২৫ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা করা হবে। জুনিয়র স্তরে (জেএসসি) মেধাবৃত্তি ৪৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মাধ্যমিক (এসএসসি) পর্যায়ে মেধাবৃত্তি ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ৩৫০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা করা হবে। উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) স্তরে মেধাবৃত্তি ৮২৫ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৬৫০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ৩৭৫ টাকা থেকে ৭৫০ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

উচ্চশিক্ষা পর্যায়েও বড় পরিবর্তন আসছে। স্নাতক (সম্মান) স্তরে মেধাবৃত্তি ১ হাজার ১২৫ টাকা থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ৪৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা করা হবে। স্নাতক (পাস) পর্যায়ে মেধাবৃত্তি ১ হাজার ৫০ টাকা থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ৩৭৫ টাকা থেকে ৭৫০ টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শুধু মাসিক বৃত্তিই নয়, বাড়ানো হচ্ছে বার্ষিক এককালীন অনুদানও। বিভিন্ন স্তরে এই অনুদান দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ও অন্যান্য শিক্ষাব্যয়ের চাপ কমাতে সহায়ক হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) বিস্তারিত প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে। প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয়ের নীতিগত অনুমোদনের পর অর্থ বিভাগের কাছে পাঠানো হবে। প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু হবে।
বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী বিভিন্ন স্তরে বৃত্তি পাচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য এই সংখ্যা আরও বাড়ানো, যাতে ঝরে পড়া কমে এবং মেধাবীরা উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৃত্তির অর্থ বৃদ্ধি শুধু আর্থিক সহায়তা নয়—এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শক্তিশালী প্রণোদনা হিসেবে কাজ করবে এবং দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নেবে।

এম