৫৮ সন্তানের এক বাবা, আড়ালে জমে থাকা করুণ এক গল্প

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২২, ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশের বাসিন্দা ৫৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিক। তাঁর চার স্ত্রীর ঘরে রয়েছে ৫৮টি সন্তান। সম্প্রতি জন্ম নিয়েছে তাঁর সর্বকনিষ্ঠ শিশুটি। বাহ্যিকভাবে বিশাল এই পরিবারে হইচই আর আনন্দের কমতি নেই। প্রতিদিন ছোট সন্তানরা যখন চারপাশ ঘিরে ধরে, তখন বাড়িটিতে মনে হয় যেন উৎসবের আমেজ চলছে। কিন্তু এই ব্যস্ততার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক করুণ বাস্তবতার চিত্র।

বিশাল এই পরিবার চালাতে গিয়ে পদে পদে হিমশিম খাচ্ছেন মোহাম্মদ সাদিক। তিনি নিজেই স্বীকার করেন, সব সন্তানের নাম মনে রাখা তাঁর পক্ষে অসম্ভব। রাতে ঘুমানোর আগে তিনি শিশুদের গুনে দেখেন সবাই আছে কি না। এমনকি এক মেয়ের বিয়ের আকদ পড়ানোর সময় ভুল করে অন্য মেয়ের নাম বলে ফেলার ঘটনাও ঘটেছিল।

তবে এই কৌতুকাবহ গল্পের পেছনে ছেয়ে আছে তীব্র দারিদ্র্য ও স্বাস্থ্যের ঝুঁকি। গাড়ির শোরুমে মাত্র এক হাজার আফগানি কমিশনে কাজ করা সাদিকের পক্ষে দুই বেলা খাবারের জোগাড় করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

খাবার সংকট এতটাই প্রকট যে কখনো কখনো সন্তানদের খালি পেটে ঘুমাতে হয়। তীব্র শীতে ছয় থেকে সাতজন সদস্যকে একটি পাতলা কম্বলের নিচে ঘুমাতে হয়। সুপেয় পানি, উন্নত শৌচাগার কিংবা শিক্ষার ন্যূনতম সুযোগও তাদের কাছে অধরা। অভাব মেটাতে ছোট সন্তানরাও রাস্তায় প্লাস্টিক ও কাগজ কুড়াতে বাধ্য হচ্ছে।

১৩ থেকে ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হওয়া সাদিকের স্ত্রীরাও পার করছেন অবর্ণনীয় জীবন। কম বয়সে বারবার গর্ভধারণের ফলে তাদের স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। ইতোমধ্যে এই দম্পতি তাঁদের ১৪টি সন্তানকে হারিয়েছেন, যা যেকোনো মা-বাবার জন্যই এক গভীর ট্র্যাজেডি।

সব অভাব ও কষ্টের মাঝেও মোহাম্মদ সাদিক স্বপ্ন দেখেন দুটি বিষয় নিয়ে। তাঁর চাওয়া-সন্তানরা যেন দ্বীন ও দুনিয়ার শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে এবং কোনোদিন যেন তাদের অভুক্ত অবস্থায় ঘুমাতে না হয়। বেঁচে থাকার এই কঠিন লড়াইয়ে টিকে থাকতে তিনি এখন মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

এসএইচ