• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০২২, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

যে কারণে পাখির পিঠে ডিভাইস বসানো হয়েছিল


কক্সবাজার সংবাদদাতা সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২২, ০১:০২ এএম
যে কারণে পাখির পিঠে ডিভাইস বসানো হয়েছিল

কক্সবাজার: কক্সবাজারের মহেশখালীতে গত সোমবার উদ্ধার হয় পিঠে ডিভাইস বসানো একটি পাখি। মহেশখালীর ধলঘাটা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের একটি সেতু থেকে অসুস্থ পাখিটি উদ্ধার করেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুল হাসানের হেফাজতে থাকা অবস্থায় সেটি মারা যায়।

এ নিয়ে কৌতূহল সৃষ্টি হলে জানা যায়, এক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় ব্যবহার করা হয়েছিল সেটিকে। পরিযায়ী এই পাখি নিয়ে গবেষণা করছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দিলীপ কুমার দাশ। অন্য কয়েকজনকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই গবেষণা। দেশে তাঁরাই প্রথম পরিযায়ী পাখি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন।

তিনি বলেন, পাখিটির বাংলা নাম কালো লেজ জৌরালি। এই পাখির নাম রাখা হয় 'ফিরোজ'। জাহাঙ্গীরগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও বন্যপ্রাণী গবেষক অধ্যাপক মোস্তফা ফিরোজের নামের শেষের অংশ থেকে নামটি নেওয়া হয়।

বিভিন্ন দেশে এই পাখির বিচরণের পথ সম্পর্কে জানার জন্যই জিপিএস ডিভাইসটি বসানো হয় ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর। নিঝুম দ্বীপে ১০টি পাখির গায়ে এই যন্ত্র বসান তাঁরা। দিলীপ কুমার দাশ বলেন, ডিভাইস বসানোর পর এপ্রিল-মে মাস পর্যন্ত পাখিটি বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চলেই ছিল। মে মাসের শেষের দিকে ভারত, হিমালয়, তিব্বত হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চীনের বোহাই অঞ্চলে পৌঁছায়। কিছুদিন চীনে অবস্থান করে পাখিটি বাংলাদেশে ফিরে আসে। এই পাখি মারা গেলেও অন্য পাখিগুলো বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। কেন তারা শীতকালে বাংলাদেশে আসে, সে বিষয়টি জানতে পাখির গায়ে জিপিএস ট্রান্সমিটার বসানো হয়।

দিলীপ কুমার দাশ জানান, এরা দুই-তিন মাসের বেশি এক দেশে থাকে না। যেখানে থাকে, সেখানে গরম বাড়তে থাকলে শীত বেশি এমন অঞ্চলে যায়। লেজ কালো জৌরালি পাখি হ্রদ-জলাশয় আছে এমন অঞ্চলে বসবাস করে। বাংলাদেশে পাখিগুলো উপকূল ও হাওর অঞ্চলে অবস্থান করে। এরা সাধারণ শামুক, ঝিনুক, কেঁচোসহ পানিতে থাকা ছোট ছোট প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে। উপকূল ও হাওর অঞ্চলে এসব খাদ্যের মজুত বেশি থাকায় পুরো শীতকাল এসব অঞ্চলে অবস্থান করে। মূলত এসব পাখির উপস্থিতি থেকে বোঝা যায়, সেই এলাকার পরিবেশ ও প্রতিবেশগত অবস্থা কেমন আছে। আগে বলা হতো, পাখিগুলো সাইবেরিয়া থেকে আসে। কিন্তু এখন নতুন নতুন তথ্য মিলছে। জিপিএস ডিভাইসের তথ্য অনুযায়ী দেখা যায়, রাশিয়া, কাজাখস্তানের মতো দেশেও এই পাখির বসবাসের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন বাস করে এই পাখি শরীরে শক্তি জমায়। প্রজননের সময় এলে বিভিন্ন দেশে চলে যায়। মূলত পাখিরা ঘাস বেশি আছে- এমন স্থানে বাসা বাঁধে ও বাচ্চা দেয়।

তিনি বলেন, মূলত হাওর ও উপকূল অঞ্চল বন্যপ্রাণীর টিকে থাকার জন্য উপযোগী কিনা, তার ইন্ডিকেটর হিসেবে কাজ করে পরিযায়ী পাখি। ডিভাইসের মাধ্যমে সেটি বোঝা যায়। আগের তুলনায় টাঙ্গুয়ার হাওর ও উপকূলে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কমেছে। পরিযায়ী পাখির জন্য এসব অঞ্চলে পরিবেশ ঠিক রাখতে করণীয় বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে ডিভাইসের তথ্য-উপাত্ত বিশ্নেষণ করে। তবে এ ধরনের গবেষণার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। তাই অনেক সময় তীব্র সংকটে পড়তে হয়। গবেষণায় ব্যবহূত ডিভাইসের মূল্য অনেক বেশি। কয়েকটি সংস্থা সহযোগিতায় এগিয়ে এলেও তা পর্যাপ্ত নয়। সরকারি সহযোগিতা পেলে কাজটি সহজ হয়। পাখিটির মৃত্যুতে তিনি খুবই ব্যথিত। এই পাখি সাধারণ লোকালয়ে আসে না। তাই পরিচিতি কম। এই পাখির মাধ্যমে যে গবেষণা হতে পারে, সে সম্পর্কে মানুষের ধারণা নেই। পাখিটি যত্নের অভাবে মারা গেছে। মানুষের এমন আবেগী আচরণ কাম্য নয়। পাখির বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

সোনালীনিউজ/এম

Wordbridge School