• ঢাকা
  • বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

মেঘনায় দুই লঞ্চের সংঘর্ষে নিহত ৪ জনের বাড়িতে শোকের মাতম


বরিশাল অফিস ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫, ১১:৩৩ এএম
মেঘনায় দুই লঞ্চের সংঘর্ষে নিহত ৪ জনের বাড়িতে শোকের মাতম

মেঘনা নদীর কালো জলে থেমে গেছে চারটি জীবনের গল্প। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে চাঁদপুরের হাইমচর এলাকায় যাত্রীবাহী দুই লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত চারজনের বাড়িতে এখন শুধুই কান্না আর আহাজারি। স্বজন হারানোর বেদনায় ভারী হয়ে উঠেছে ভোলা ও চরফ্যাশনের একাধিক গ্রাম।

নিহতরা সবাই জীবিকার তাগিদে ঢাকার পথে ছিলেন। কেউ যাচ্ছিলেন কাজের খোঁজে, কেউ চিকিৎসার জন্য, কেউ আবার পরিবারের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানো আর হলো না তাদের।

নিহত আবদুল গনি (৩৮) ভোলার লালমোহন উপজেলার কাজিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা। তিন সন্তানের জনক গনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন তার স্ত্রী লাইজু বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমি বারবার ঢাকায় যেতে মানা করেছিলাম। কিন্তু কাজের কথা বলে চলে গেল। এখন আমার তিনটা সন্তানের কী হবে।

একই উপজেলার কালু খাঁর ছেলে মো. সাজু (৪৫) জীবিকার তাগিদে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। শুক্রবার সকালে তার মৃত্যুর খবর পৌঁছাতেই পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েন। গ্রামের মানুষজন ছুটে আসেন শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে।

চরফ্যাশনের আহাম্মদপুর ইউনিয়নের ফরিদাবাদ গ্রামের মো. হানিফ মাঝি (৪২) ছিলেন পরিবারের একমাত্র ভরসা। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মাঝপথেই থেমে যায় তার জীবনের যাত্রা। বাবার মৃত্যুর খবরে তার ছেলে-মেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বলেন, বাবা ছাড়া আমাদের সংসার চলবে কীভাবে। 

দুর্ঘটনায় নিহত একমাত্র নারী যাত্রী মোসা. রিনা (৩৫)। ভোলার কচুখালী গজারিয়া এলাকার গার্মেন্টকর্মী রিনা ছিলেন দুই সন্তানের জননী। মায়ের মৃত্যুর খবর শুনে তার স্কুলপড়ুয়া মেয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো বাড়ি ভারি হয়ে উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রীদের ভাষ্যমতে, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে ঘন কুয়াশার মধ্যে চাঁদপুরের হাইমচর এলাকায় মেঘনা নদীতে ঢাকাগামী এমভি জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চের সঙ্গে বরিশাল-ঝালকাঠিগামী এমভি অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে নদীতে। যাত্রীরা প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন।

দুর্ঘটনার পর নৌ-পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালান। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে চারজনকে আর জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট লঞ্চটির রুট পারমিট বাতিল ও চার কর্মী আটক করা হয়েছে।সন্ধ্যায় বিষয়টি জানিয়ে বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ এর সহকারী পরিচালক মো. সোলাইমান বলেন, দুই লঞ্চের সংঘর্ষের ঘটনায় অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে বিআইডব্লিউটিএ ও নৌ-পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত করছে।

‎আটকৃত চারজন লঞ্চ কর্মী হলেন, ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার কয়য়ারচর এলাকার আব্দুল কুদ্দুস মাঝির ছেলে মো. মিন্টু (২৮), একই উপজেলার ভরতকাঠি এলাকার ছামসুল হক হাওলাদারের ছেলে মহিন হাওলাদার (২৫), পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বাহের গজালিয়া এলাকার খলিলুর রহমান গাজীর ছেলে মো. সোহেল (৪০) এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রুপসী এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মো. মনিরুজ্জামান (৪০)।

ঝালকাঠি সদর থানার ওসি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, লঞ্চটি ঝালকাঠিতে নোঙর করার পর এর সারেং, সুকানি, সুপারভাইজার ও ইঞ্জিনচালক পালিয়ে যায়। তবে চারজন কেবিন বয়কে আটক করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

এম

Wordbridge School
Link copied!