• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

সিএনএনের বিশ্লেষণ

৭ কারণে ইরান যুদ্ধে সহজ জয় পাচ্ছেন না ট্রাম্প


আন্তর্জাতিক ডেস্ক মার্চ ১৩, ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম
৭ কারণে ইরান যুদ্ধে সহজ জয় পাচ্ছেন না ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য ক্রমেই জটিল রূপ নিচ্ছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প দ্রুত বিজয় দাবি করলেও বাস্তব পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকলেও বেশ কিছু কৌশলগত ও রাজনৈতিক কারণে এই যুদ্ধে সহজ জয় পাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অন্তত সাতটি বড় কারণ ট্রাম্পের জন্য পরিস্থিতিকে কঠিন করে তুলেছে।

১. হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া
ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। সামরিকভাবে এই পথ দ্রুত খুলে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

২. সামরিক সমাধানের সীমাবদ্ধতা
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ইরানের তুলনায় অনেক বেশি, তবুও বাস্তব পরিস্থিতিতে সব সমস্যার সমাধান যুদ্ধ দিয়ে করা সম্ভব নয়। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান অল্প খরচের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং সমুদ্রপথের নানা কৌশল ব্যবহার করে বড় শক্তিকেও দীর্ঘ সময় আটকে রাখতে পারে।

৩. যুদ্ধের অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি
যুদ্ধের মাঝেই ইরাকে একটি মার্কিন ট্যাঙ্কার বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। যদিও এটিকে দুর্ঘটনা বলা হয়েছে, তবুও এটি দেখিয়েছে যে বড় আকারে সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে গেলে নানা ধরনের ঝুঁকি ও ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

৪. ইরানের নেতৃত্বে পরিবর্তন
যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি নেতৃত্বে আসেন। তবে এতে ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি। বরং নতুন নেতৃত্ব আগের চেয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

৫. ইসরায়েলের কৌশলগত অবস্থান
যুদ্ধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য সব সময় এক নাও হতে পারে। ইসরায়েল দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে অভ্যস্ত এবং নিজেদের নিরাপত্তাকে একটি চলমান সামরিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র যদি দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে চায়, তবুও ইসরায়েলের অবস্থান ভিন্ন হতে পারে।

৬. পারমাণবিক কর্মসূচির অনিশ্চয়তা
ট্রাম্প দাবি করছেন যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু যদি ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধরে রাখতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে আবারও পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করার সম্ভাবনা থেকে যায়।

৭. অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ
যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও পড়ছে। তেলের দাম বৃদ্ধি, নিহত সেনাদের সংখ্যা এবং বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করতে পারে। এতে রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধকে বিজয় হিসেবে তুলে ধরা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে সামরিকভাবে চাপ বজায় রাখতে পারে। তবে এই সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেই আসতে পারে।

তাদের মতে, সময় যত গড়াবে যুদ্ধের ফলাফল তত অনিশ্চিত হয়ে উঠবে—এবং শক্তিশালী প্রতিপক্ষও ধৈর্যের পরীক্ষায় পিছিয়ে পড়তে পারে।

এম

Wordbridge School
Link copied!