• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

শক্তিশালী বোমার ওপর চলছিল কাপড় ধোয়ার কাজ


কক্সবাজার প্রতিনিধি জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
শক্তিশালী বোমার ওপর চলছিল কাপড় ধোয়ার কাজ

ছবি : প্রতিনিধি

কক্সবাজার: এক দুই দিন নয় বা এক দুই বছর নয়, দীর্ঘ দেড় দশক ধরে চলছিল একটি শক্তিশালী বোমার ওপর কাপড় ধোয়ার কাজ। ঘটনাটি কক্সবাজারের রামু উপজেলার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি অবিস্ফোরিত বোমার ওপরই এই ধোয়ার কাজ কলছিল। বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান, ‘তখন বুঝিই নাই এটা বোমা। সামনে পাখার মতো অংশ ছিল। একটি শেকল ছিল, থালার মতো একটি লকারও ছিল; সেগুলো আমরা ভেঙে ভাঙ্গারির কাছে বিক্রি করে দিয়েছি।’

আরেক বাসিন্দা সিরাজুল হক বলেন, ‘এত বছর ধরে এখানে মানুষ যাতায়াত করেছে, কাপড় ধুয়েছে, কিন্তু আল্লাহর রহমতে কিছু হয়নি।’

জানা গেছে, রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লট উখিয়ারঘোনা তচ্ছাখালী এলাকায় একটি পুকুরপাড়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি ভারী ধাতব বস্তু ছিল।

তবে প্রথমে কেউ এটাকে গুরুত্ব দেয়নি। স্থানীয়দের ধারণা ছিল, এটি হয়তো কোনো পুরনো লোহার বস্তু। কিন্তু সম্প্রতি সেটিই যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি শক্তিশালী অবিস্ফোরিত বোমা তা নিশ্চিত করেছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞরা।

পুলিশ জানায়, প্রায় ১০-১৫ বছর আগে পুকুর সংস্কারের সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বস্তুটিকে পানি থেকে তুলে পাড়ে রেখে দেন। এরপর সেটিকে ঘিরেই চলতে থাকে দৈনন্দিন কাজ। বিশেষ করে নারীরা সেখানে নিয়মিত কাপড় ধুতে আসতেন। গত 

বৃহস্পতিবার রামুর ইতিহাস গবেষক ও আইনজীবী শিরূপন বড়ুয়া ফেসবুকে বোমা সদৃশ বস্তুটির ছবি পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জাপানি বোমা হতে পারে এবং এতে বিস্ফোরক আছে কি না, তা পরীক্ষা করা জরুরি। এই পোস্টের পরই স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি বড় অবিস্ফোরিত বোমা বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বোমাটিকে নিরাপদ স্থানে রেখে চারপাশ ঘিরে ফেলা হয়েছে। সেনাবাহিনীকে জানানো হলে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।’

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যামুনিশন বিশেষজ্ঞ ক্যাপ্টেন জান্নাতুল ফেরদৌসের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সেনা সূত্রে জানা গেছে, বোমাটির ওজন আনুমানিক ৩০০ থেকে ৩২০ কেজি, দৈর্ঘ্য প্রায় ১১৯ সেন্টিমিটার এবং ব্যাস ১১৭ সেন্টিমিটার। বর্তমানে বোমাটির চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী দেওয়া হয়েছে এবং এলাকাবাসীকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিষ্ক্রিয় না করা পর্যন্ত সেখানে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

Wordbridge School
Link copied!