• ঢাকা
  • শনিবার, ০৯ মে, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ভুয়া ঠিকানায় জন্ম সনদ তৈরি করতেন বেগমপুর ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা


চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি  মে ৯, ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
ভুয়া ঠিকানায় জন্ম সনদ তৈরি করতেন বেগমপুর ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা

ছবি : প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানাধীন বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরির একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে প্রশাসন। অভিযানে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।

জানা গেছে, বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রায়হান মাহমুদ (৩৫) ও উদ্যোক্তা মো. আরিফুল ইসলাম (৩০) দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলার নাগরিকদের ভুয়া ঠিকানায় জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করে আসছিলেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলার লোকজনকে বেগমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা দেখিয়ে ডিজিটাল জন্মসনদ দেওয়া হতো।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ৭ মে যখন এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসিয়াল নম্বরে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্তে নামে উপজেলা প্রশাসন এবং সেখানেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

সরেজমিন তদন্তে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশ্চিত হন, যাদের নামে জন্মনিবন্ধন করা হয়েছে তারা কেউই বেগমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নন, এমনকি স্থানীয়রাও তাদের চিনেন না। আরও জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের নির্ধারিত নিবন্ধন আইডি অপব্যবহার করে উদ্যোক্তা আরিফুল ইসলাম নিজেই জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে অসদুপায়ে জন্মনিবন্ধন তৈরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রশাসনের ধারণা, এই চক্রের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ভুয়া জন্মসনদ তৈরি হয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের ঝুকি তৈরি করতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে দর্শনা থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। মামলায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) হিমেল রানা বলেন, ইউএনও মহোদয়ের তদন্ত শেষে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল বলছে, জন্মনিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সেবায় এমন জালিয়াতি শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতাই নয়, বরং ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার ইতোমধ্যে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, এই জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুতই পুরো নেটওয়ার্ককে আইনের আওতায় আনা হবে।

এআই/এসআই

Link copied!