• ঢাকা
  • বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ঝালকাঠির রাজাপুরে চার শতকের ঐতিহ্য ‘পাকা মসজিদ’ ধ্বংসের ঝুঁকিতে


ঝালকাঠি প্রতিনিধি ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০২:০৩ পিএম
ঝালকাঠির রাজাপুরে চার শতকের ঐতিহ্য ‘পাকা মসজিদ’ ধ্বংসের ঝুঁকিতে

ছবি: প্রতিনিধি

রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘পাকা মসজিদ’ সংরক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। ভান্ডারিয়া–রাজাপুর মহাসড়কের গালুয়া বাজার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই প্রাচীন স্থাপনাটি স্থানীয় মুসল্লিদের কাছে শুধু ইবাদতের স্থানই নয়, বরং এলাকার ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য।

স্থানীয়দের ধারণা, প্রায় ৪০০ বছর আগে মুঘল আমলে এক গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদ নির্মিত হয়। এর নির্মাণশৈলীতে প্রাচীন বাংলার সুলতানি ও মুঘল স্থাপত্যরীতির স্পষ্ট ছাপ দেখা যায়। পাকা ইট ও চুন–সুরকির গাঁথুনিতে নির্মিত দেয়াল, খোদাইকৃত নকশা এবং ইসলামিক কারুকাজ অতীতের স্থাপত্য ঐতিহ্যের উৎকর্ষের পরিচয় বহন করে।

লোকমুখে প্রচলিত আছে, মাহমুদ খান আকন (মামুজি) নামে এক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি বাংলা ১১২২ সাল থেকে মসজিদটির দেখাশোনা করতেন। মসজিদের কাছাকাছি একটি পরিত্যক্ত শিলালিপি থেকেও এর প্রাচীনত্বের আভাস পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্বাধীনতার আগে মসজিদটি প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়লে স্থানীয় এক সমাজহিতৈষীর উদ্যোগে আংশিক সংস্কার করা হয়। পরে ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটিকে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে তালিকাভুক্ত করে এবং সরকারি অর্থায়নে কিছু সংস্কার কাজ পরিচালনা করে।

তবে বর্তমানে মসজিদটির প্রাচীর ও গম্বুজে শ্যাওলা জমেছে, ইটের গাঁথুনি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং কাঠামোর বিভিন্ন অংশে নোনাধরা দাগ স্পষ্ট। দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় স্থাপনাটি আবারও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

প্রতিদিন বহু ইতিহাসপ্রেমী ও দর্শনার্থী এই প্রাচীন নিদর্শনটি দেখতে আসেন। জুমার নামাজসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এখানে নিয়মিত আদায় করা হয়; রমজান ও ঈদে মুসল্লিদের ভিড়ও দেখা যায়।

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত টেকসই সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের দাবি জানিয়েছেন, যাতে চার শতকের এই ঐতিহ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত থাকে।

এসএইচ 


 

Wordbridge School
Link copied!