• ঢাকা
  • বুধবার, ০১ এপ্রিল, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

পিরোজপুরে বাসভবনে ২ হাজার ৭৬ লিটার জ্বালানি তেল মজুদ


পিরোজপুর প্রতিনিধি এপ্রিল ১, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
পিরোজপুরে বাসভবনে ২ হাজার ৭৬ লিটার জ্বালানি তেল মজুদ

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদের দায়ে শামীম হাসান খান নামে এক ব্যবসায়ীকে ১৪ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যায় গোয়েন্দা সংস্থার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় পৌর শহরের হাসপাতাল রোড সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ‘আমিরুল অয়েল সাপ্লাইয়ার্স’-এর স্বত্বাধিকারী শামীম হাসান খান দীর্ঘদিন ধরে দোকানে তেলের সংকট দেখিয়ে ভোক্তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন। তবে গোপনে নিজ বাসভবনের নিচে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদ করে রাখেন তিনি।

খবর পেয়ে বিকাল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত দেবনাথের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের যৌথ দল ওই বাসভবনে অভিযান চালায়। এ সময় অভিযুক্তের গুদাম থেকে ডিজেল ১,৬৮৩ লিটার, পেট্রোল ১২০ লিটার, কেরোসিন ২৬৩ লিটার এবং অকটেন ১০ লিটারসহ মোট ২,০৭৬ লিটার 

জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত তেলের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার ২৬৫ টাকা।
অভিযান চলাকালে ইব্রাহিম খলিল নামে এক গাড়িচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা তেলের জন্য বিভিন্ন দোকানে ঘুরেছি, কিন্তু দোকানদার তেল নেই বলে ফিরিয়ে দিয়েছেন। অথচ তিনি নিজ বাসায় এত তেল মজুদ করে রেখেছেন।”

প্রশাসন জানায়, অভিযুক্ত শামীম হাসানের ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ জেলা প্রশাসকের দেওয়া পরিবেশ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে তেল মজুদের অপরাধ স্বীকার করায় তাকে ১৪ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

জব্দকৃত ২,০৭৬ লিটার জ্বালানি তেল সরকারি মূল্যে মঠবাড়িয়া উপজেলার একমাত্র ফিলিং স্টেশনের মালিকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরদিন ব্যাংকিং সময়ের মধ্যে চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। এদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে পিরোজপুর জেলা কারাগারে পাঠানোর জন্য মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

অভিযান শেষে ইউএনও আকলিমা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় একটি চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়া জনবসতিপূর্ণ এলাকায় দাহ্য পদার্থ মজুদ করে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি করা হয়েছিল। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অবৈধভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বা জ্বালানি মজুদ করে বাজার অস্থির করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এম

Wordbridge School
Link copied!