• ঢাকা
  • সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

আকাল আর আকাশচুম্বী দামে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে ইলিশ


পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০২:১৪ পিএম
আকাল আর আকাশচুম্বী দামে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে ইলিশ

ছবি : প্রতিনিধি

বরগুনা: পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে ইলিশ মাছের চাহিদা বাড়লেও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। সরবরাহ কম থাকায় বাজারে ইলিশের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে. যা মধ্যবিত্তদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। এতে সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে হতাশা।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈশাখ উপলক্ষে প্রতি বছর ইলিশের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তবে এবার সেই তুলনায় মাছের সরবরাহ নেই। বিভিন্ন বাজারে অল্প কিছু মাছ উঠলেও দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে এবং চাহিদার এক-তৃতীয়াংশও পূরণ হচ্ছে না বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

তেল সংকটের কারণে সাগর ও নদীতে অনেক জেলে মাছ শিকারে যেতে পারছেন না। এতে মাছ আহরণ কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে পহেলা বৈশাখের বাজারে।

কিছুদিনের ব্যবধানে ইলিশ মাছের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। সাইজ অনুসারে প্রতি মণ ইলিশের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। বর্তমানে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ১ লাখ ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায়। সেই হিসাবে প্রতি কেজি ইলিশের দাম দাঁড়াচ্ছে ৪ হাজার টাকারও বেশি। এছাড়া ৫০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায়, যা কেজিপ্রতি প্রায় ৩ হাজার টাকা। এর চেয়ে ছোট সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায়।

আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে ৫৮ দিনের সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। এই নিষেধাজ্ঞা ১১ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে সরকার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে জেলেরা আগাম প্রস্তুতি নিয়ে পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে অনেক ফিশিং ট্রলার গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে গেলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে আসছে। এতে বাজারে ইলিশের সরবরাহ কমে গেছে এবং দাম বেড়ে গেছে অস্বাভাবিকভাবে। অন্যদিকে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকাররা সামান্য কিছু ইলিশ সংগ্রহ করতে পারলেও অনেকেই মাছ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

ইলিশ মাছ কিনতে আসা ক্রেতা বিপ্লব বলেন, বৈশাখ মানেই ইলিশ কিন্তু এবার বাজারে এসে দাম শুনে হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে। আগে যেখানে একটি ইলিশ কিনে পরিবার নিয়ে খেতে পারতাম, এখন সেই সামর্থ্য নেই। দাম এত বেশি যে মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য ইলিশ যেন বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।

ক্রেতা আল আমিন বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে ইলিশ কিনতে বাজারে এসেছিলাম। কিন্তু দাম দেখে হতাশ হয়ে শেষ পর্যন্ত গুঁড়ো মাছ কিনেই বাসায় ফিরছি। এই ইলিশ এখন আমাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। 

মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, চাহিদা বেশি থাকলেও সরবরাহ কম থাকায় ইলিশের দাম বেড়ে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ইলিশের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় সেসব স্থানে মাছ পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাজারে সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।

পাথরঘাটা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর মোহনায় চর পড়ে যাওয়ায় ইলিশের প্রাপ্যতা কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ফিশিং বোটগুলো সমুদ্রে যেতে পারেনি। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বর্ষা মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ নিয়ে জেলেরা ঘাটে ফিরবে।

পিএস

Link copied!