• ঢাকা
  • শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

জিয়ানগরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ১৯ স্লুইসগেট অকেজো


পিরোজপুর প্রতিনিধি এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
জিয়ানগরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ১৯ স্লুইসগেট অকেজো

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্লুইসগেটগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলার কঁচা ও বলেশ্বর নদসংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় অন্তত ১৯টি স্লুইসগেট ভেঙে পড়েছে বা সম্পূর্ণভাবে অকেজো হয়ে রয়েছে। ফলে জোয়ার-ভাটার পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হয়ে ফসলি জমি প্লাবিত হচ্ছে এবং গ্রামীণ অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি স্লুইসগেটের কপাট ভেঙে গেছে, আবার কোথাও মরিচা পড়ে গেট ওঠানো-নামানো সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে জোয়ারের সময় নদীর পানি অনিয়ন্ত্রিতভাবে ঢুকে কৃষিজমি প্লাবিত করছে। রবিশস্যসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল নষ্ট হচ্ছে এবং পানির চাপে খালপাড় ও গ্রামীণ সড়কে মারাত্মক ভাঙন দেখা দিয়েছে।

চর-গাজীপুর গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, “স্লুইসগেট ঠিকমতো কাজ না করায় জোয়ার এলেই জমিতে পানি ঢুকে পড়ে। ফসল তো নষ্ট হচ্ছেই, এখন বাড়িঘর ও রাস্তার নিরাপত্তাও নেই।”

বলেশ্বর নদের তীরবর্তী ইন্দুরকানী গ্রামের ভাড়ানি খালের ওপর নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্লুইসগেট সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।  এতে পার্শ্ববর্তী বসতবাড়ি চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রবল স্রোতে খালসংলগ্ন প্রায় তিন কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, খালের গভীরতা বর্তমানে ৮ থেকে ৯ ফুটে পৌঁছানোয় দুই পাড়েই মারাত্মক ভাঙন শুরু হয়েছে।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের কঁচা নদ তীরবর্তী কালাইয়া ও ইন্দুরকানী গ্রামের চারটি স্লুইসগেটের কপাটই ভেঙে গেছে। ফলে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারে নদীর পানি ঢুকে রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া বালিপাড়া ইউনিয়নের ২টি, পাড়েরহাটের ৮টি এবং চণ্ডিপুর ইউনিয়নের ৫টি স্লুইসগেট দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর অবস্থায় পড়ে রয়েছে। 

উত্তর ইন্দুরকানী গ্রামের ভাড়ানি খালের একটি স্লুইসগেটের কপাট না থাকায় এক পাশের বেড়িবাঁধ পুরোপুরি ভেঙে গেছে। বর্তমানে সেখানে নৌকা ও ট্রলার চলাচল করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ছয় বছর ধরে ভাঙন চললেও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো কার্যকর সংস্কার কাজ করেনি।

বালিপাড়া গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, “এই স্লুইসগেটগুলোর ওপরই আমাদের কৃষি নির্ভর করে। দ্রুত সংস্কার না হলে পুরো এলাকা কৃষি বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। 

চণ্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জু বলেন, স্লুইসগেটগুলো দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না করায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে পানির চাপ বৃদ্ধি পেয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, যার কারণে রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি একাধিকবার পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। তবে তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত মেরামত কাজ শুরু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্ষা মৌসুম এলেই স্লুইসগেট সমস্যার কারণে পুরো ইউনিয়ন পানির নিচে তলিয়ে যায়। তাই বর্ষার আগেই স্লুইসগেটগুলো মেরামত করা না হলে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমিতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নুসাইর হোসেন জানান, কঁচা ও বলেশ্বর নদসংলগ্ন বিধ্বস্ত স্লুইসগেটগুলো পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দ্রুত বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ শুরু করা হবে। 

এম

Link copied!