• ঢাকা
  • শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

গ্রামে নেই প্রচারণা, ফরিদপুরে হামের উপসর্গে বাড়ছে শিশুমৃত্যু


ফরিদপুর প্রতিনিধি এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
গ্রামে নেই প্রচারণা, ফরিদপুরে হামের উপসর্গে বাড়ছে শিশুমৃত্যু

ছবি: প্রতিনিধি

ফরিদপুরে হামের উপসর্গে একের পর এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে জেলায় মৃতের সংখ্যা পাঁচে পৌঁছেছে। একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। তবে গ্রাম বা ইউনিয়ন পর্যায়ে এখনো টিকাদান কর্মসূচির প্রচারণা শুরু না হওয়ায় অনেক অভিভাবকই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন।

শনিবার ফরিদপুর সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ মৃত শিশু আবদুল্লাহ শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকার বাসিন্দা। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, শিশুটি হামের উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলেও এখনো রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। তবে উপসর্গের ভিত্তিতে চিকিৎসকেরা এটিকে ক্লিনিক্যালি হামজনিত মৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বর্তমানে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও সদর জেনারেল হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৬ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩৫৭ জন রোগী হামের চিকিৎসা নিয়েছেন। মৃতদের মধ্যে ফরিদপুর ছাড়াও গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও রাজবাড়ীর শিশুরা রয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শনিবার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। তবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সভা হলেও ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড পর্যায়ে এখনো দৃশ্যমান কোনো প্রচারণা শুরু হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত দেশব্যাপী হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। আগে টিকা নেওয়া থাকলেও এই ক্যাম্পেইনে প্রতিটি শিশুকে অতিরিক্ত এক ডোজ টিকা দেওয়া হবে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

তিনি আরও জানান, সময় স্বল্পতার কারণে এখনো গ্রামাঞ্চলে প্রচারণা শুরু হয়নি। তবে স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাদান সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াবেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরে মোট ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৫ শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য জেলার ৯টি উপজেলা, ৭৯টি ইউনিয়ন, ২৩৭টি ওয়ার্ড এবং পৌরসভার ২৭টি ওয়ার্ডে মোট ২ হাজার ৬৯৩টি টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত এসব কেন্দ্রে টিকা প্রদান করা হবে।
 

এসএইচ 

Link copied!