ফাইল ছবি
অর্থমন্ত্রী কর্তৃক উপস্থাপিত ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রস্তাবনাকে সামগ্রিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানামুখী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মাঝেও দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে সচল রাখা, ব্যবসা সহজীকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দূরদর্শী প্রয়াসের জন্য অর্থমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিজিএমইএ মনে করে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট জনকল্যাণমুখী ও ব্যবসাবান্ধব। কর কাঠামোর ধারাবাহিকতা অন্তত ৫ বছর বজায় রাখার পরিকল্পনা, নগদ সহায়তার বিপরীতে আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা, ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে কর রেয়াতের মতো ইতিবাচক পদক্ষেপ দেশের শিল্পায়নে ব্যাপক আত্মবিশ্বাস জোগাবে। এ ছাড়া এসএমই ও নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন এবং লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদনে শুল্ক-কর অব্যাহতির প্রস্তাবটি টেকসই শিল্পায়নে মাইলফলক হয়ে থাকবে।
তবে দেশের কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মূল চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান সংকট উত্তরণে কিছু নীতিগত সহায়তা প্রদান করা জরুরি বলে মনে করে সংগঠনটি। বিজিএমইএ জানায়, বৈশ্বিক মন্দা ও অভ্যন্তরীণ ব্যয় বৃদ্ধির কারণে চলতি অর্থবছরে তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার পরিমাণ ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ফলে বিগত ৩ বছরে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তৈরি পোশাক খাতের সক্ষমতা রক্ষায় বিজিএমইএ বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। প্রথমত, পোশাক রপ্তানির বিপরীতে উৎসে কর হার বর্তমানের ১ শতাংশ থেকে হ্রাস করে শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং তা আগামী ৫ বছরের জন্য স্থিতিশীল করার প্রস্তাব করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, নগদ সহায়তার ওপর আয়কর ৫ শতাংশে নামিয়ে আলায় ধন্যবাদ জানালেও বর্তমান তারল্য সংকট বিবেচনায় তা সম্পূর্ণ মওকুফ (০ শতাংশ) করার পুনর্বিবেচনা অনুরোধ করেছে সংগঠনটি।
এ ছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলোকে সচল রাখতে সাব-কন্ট্রাক্ট মূল্যের ওপর থেকে ১ শতাংশ দ্বৈত উৎসে করের অবসান, পোশাক খাতের জন্য নির্ধারিত বিশেষায়িত করপোরেট ট্যাক্স হার (১২ শতাংশ এবং গ্রিন ফ্যাক্টরির জন্য ১০ শতাংশ) যেন অন্য আয়ের অজুহাতে বাড়ানো না হয় তা নিশ্চিত করা এবং ম্যান-মেড ফাইবার ভিত্তিক পোশাকের সম্ভাবনা বাড়াতে পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার (পিএসএফ), পিভিসি রেজিন ও পিইটি রেজিনের ওপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
বিজিএমইএ আশা প্রকাশ করেছে যে, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ব্যবসায়ের খরচ কমানো, নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী মূল্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী বাজেটে পোশাক খাতের এই যৌক্তিক দাবিগুলো সদয়ভাবে বিবেচনা করবেন।
এসএইচ







































