• ঢাকা
  • শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ব্রাজিলের ‘দুই যুগের’ ট্রফি খরা কাটানোর মিশন শুরু


নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৩, ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
ব্রাজিলের ‘দুই যুগের’ ট্রফি খরা কাটানোর মিশন শুরু

ফাইল ছবি

২০২৫ সালের মে মাসে ইতিহাস রচনা করেছিল ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)। সেলেসাওদের ইতিহাসের প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে তারা নিয়োগ দেয় রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তিকে। ক্লাব ফুটবলে তিন দশকের ট্রফি সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারের ইতি টেনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন তিনি। আর আজ সেই আনচেলত্তির হাত ধরেই দুই যুগের বিশ্বকাপ খরা কাটানোর মূল মিশন শুরু করছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দেশ ব্রাজিল। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে অন্য যেকোনো দলের চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা (১১৪) ও বেশি ম্যাচ জেতার (৭৪) রেকর্ড তাদেরই। এমনকি ১৯৩০ সালের উদ্বোধনী আসর থেকে শুরু করে প্রতিটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া একমাত্র দলও তারা। কিন্তু ২০০২ সালের পর থেকে এই মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিটি আর ছোঁয়া হয়নি ব্রাজিলের। ২৪ বছর ধরে চলা এই খরা ঠিক ১৯৭০ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যবর্তী সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। সেবারও দুই যুগের খরা কাটিয়ে আমেরিকার মাটিতেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেলেসাওরা। এবারও ভেন্যু সেই আমেরিকা।

তবে ৪৮ দলের বর্ধিত এই টুর্নামেন্টের মূল পর্বের টিকিট কাটতে বেশ ঘাম ছুটtracking হয়েছে ব্রাজিলের। বাছাইপর্বের ১৮ ম্যাচে ৮ জয়, ৪ ড্র ও ৬ হারের পর কনমেবল অঞ্চলের পঞ্চম দল হিসেবে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় তারা। এমনকি শেষ বাছাই ম্যাচে বলিভিয়ার কাছে ১-০ গোলে হেরে অঘটনের শিকারও হয়েছিল দলটি। এরপর গত অক্টোবরে জাপান ও ফ্রান্সের কাছে হারলেও, আনচেলত্তির অধীনে শেষ তিন ম্যাচে ক্রোয়েশিয়া, পানামা ও মিসরের বিপক্ষে ১১-৪ গোলের বড় ব্যবধানে জিতে চেনা ছন্দে ফিরেছে দল।

ফিফা র‍্যাংকিংয়ের ষষ্ঠ স্থানে থাকা ব্রাজিল আজ গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে সপ্তম স্থানে থাকা মরক্কোর। বিশ্বকাপে আফ্রিকান দেশগুলোর বিপক্ষে ব্রাজিলের রেকর্ড বরাবরই দুর্দান্ত। আট ম্যাচ খেলে জিতেছে সাতটিতেই, একমাত্র হারটি ছিল ২০২২ বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের কাছে। স্বাভাবিকভাবেই বাজির দরলগ্নিতে ‘সি’ গ্রুপের শক্তিশালী ফেভারিট ধরা হচ্ছে সেলেসাওদের।

অন্যদিকে, প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলার ইতিহাস গড়া মরক্কো এবার বিশ্বমঞ্চে সপ্তমবারের মতো অংশ নিচ্ছে। টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রধান ‘ডার্ক হর্স’ ভাবা হচ্ছে তাদের। ১৯৭০ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে প্রথম তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে উঠে চমক দেখালেও, ১৯৯৪ সালে আমেরিকার মাটিতে তিন ম্যাচেই হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে এক শক্তিশালী ফুটবল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘আটলাস লায়ন্স’রা। ২০২৩ সালের শুরু থেকে ৪৫ ম্যাচ খেলে তাদের জয় ৩৩টিতে, ড্র ১০টি আর হার মাত্র ২টি। র‍্যাংকিংয়ে তারা এখন নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম ও জার্মানির মতো পরাশক্তিদের ওপরে। এই অবিশ্বাস্য উত্থানের পেছনে মূল কৃতিত্ব সাবেক কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুইয়ের। তাঁর অধীনে বাছাইপর্বের সব ম্যাচ জেতার পর এই বছরের শুরুতে বিতর্কিতভাবে আফ্রিকার চ্যাম্পিয়ন হয় মরক্কো (সেনেগাল ফাইনালে মাঠ ছাড়ায় সিএএফ মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে)।

কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর ১০০ দিনেরও কম সময় আগে রেগরাগুই পদত্যাগ করলে দায়িত্ব নেন মোহাম্মদ উয়াভি। তাঁর অধীনে পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত (৩ জয় ও ২ ড্র) রয়েছে মরক্কো, যার শেষটি ছিল নরওয়ের সঙ্গে ১-১ গোলের ড্র। ইতিহাসের প্রথমবার টানা দুটি বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া মরক্কোকে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে ব্রাজিলের বিপক্ষে তাদের শেষ ম্যাচটি। দুই দলের তিনবারের দেখায় প্রথম দুটি ব্রাজিল জিতলেও, ২০২৩ সালের মার্চে শেষ প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল এই আফ্রিকানমুলুকই। ফলে র‍্যাংকিং ও শক্তিমত্তার বিচারে আজ মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এক মহাদ্বৈরথ দেখতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্ব।

এসএইচ 

Link copied!