ছবি : প্রতিনিধি
পিরোজপুর: দোকানের বকেয়া প্রায় ৪০ লাখ টাকা আদায়ে হালখাতার আয়োজন করেছিলেন পিরোজপুরের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। কিন্তু হালখাতা শেষে জমা পড়ে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। পরে বাধ্য হয়ে পাওনা টাকা আদায়ে এলাকায় মাইকিং শুরু করেছেন ওই ব্যবসায়ী।
সরেজমিনে শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে পিরোজপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ শংকরপাশা এলাকায় গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়। একই এলাকার বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত ওই ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম বাদশা ২০১৯ সাল থেকে মেসার্স আদিল আহনাফ এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স হাওলাদার ব্যাটারী নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।
জানা গেছে, মুদি পণ্য থেকে শুরু করে ইজিবাইকের ব্যাটারি ও যন্ত্রাংশ—সব ধরনের পণ্যই পাওয়া যেত তার দোকানে। ব্যবসার স্বার্থে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার পরিচিত ক্রেতাদের বাকিতে পণ্য দিয়ে আসছিলেন তিনি। এভাবে সাত বছরে তার বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ থেকে ৪২ লাখ টাকায়।
বকেয়া টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে গত (১৩ মে) বুধবার দোকানে হালখাতার আয়োজন করেন সাইফুল ইসলাম। এ উপলক্ষে তিনি ক্রেতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমন্ত্রণপত্র বিতরণ করেন এবং দোকানে আপ্যায়নেরও ব্যবস্থা করেন। তবে প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি। দীর্ঘদিনের পাওনাদারদের অধিকাংশই হালখাতায় উপস্থিত হননি।
হালখাতা শেষে বিপুল বকেয়ার বিপরীতে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা জমা পড়ে। এতে হতাশ হয়ে পরদিন (১৪ মে) সকাল থেকে এলাকায় মাইক ভাড়া করে পাওনাদারদের উদ্দেশ্যে টাকা পরিশোধের আহ্বান জানাতে শুরু করেন তিনি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ব্যবসার প্রতি আস্থা রেখেই সাইফুল ইসলাম মানুষকে বাকিতে পণ্য দিতেন। কিন্তু এখন অধিকাংশ পাওনাদার টাকা পরিশোধ না করায় তিনি চরম সংকটে পড়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মারুফ হোসেন বলেন, “একজন ছোট ব্যবসায়ীর জন্য ৪০ লাখ টাকা অনেক বড় অঙ্ক। সবাই যদি ধীরে ধীরে বকেয়া টাকা পরিশোধ করেন, তাহলে তার ব্যবসা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।”
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম বাদশা বলেন, “মানুষকে বিশ্বাস করে বাকিতে মাল দিয়েছিলাম। এখন টাকা না পেয়ে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। সবাইকে অনুরোধ করছি, যার যত বাকি আছে দ্রুত পরিশোধ করুন।”
তিনি আরও বলেন, “যদি পাওনাদাররা টাকা পরিশোধ না করেন, তাহলে বাধ্য হয়ে মাইক নিয়ে তাদের বাড়ির সামনে গিয়ে টাকা চাইতে হবে।”
এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী দ্রুত সময়ের মধ্যে বকেয়া টাকা পরিশোধ করে ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামের প্রতিষ্ঠান দুটি টিকিয়ে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
পিএস







































