ছবি : প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: সরকারি হাসপাতালে চাকরি করেও প্রাইভেট হাসপাতালের মালিকানা থাকার অভিযোগের প্রমাণ মেলায় বিভাগীয় মামলা হয়েছে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. মাহফুজ রায়হানের বিরুদ্ধে। তবে ডা. মাহফুজ রায়হানের দাবি বর্তমানে তার কোন শেয়ার নেই ওই বেসরকারি হাসপাতালে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ম্যাক্স হাসপাতালের মালিকানা থাকায় এই মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনি এর আগে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।
ডা. মাহফুজ রায়হান বর্তমানে বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত থাকলে তার বিরুদ্ধে হওয়া বিভাগীয় মামলার প্রজ্ঞাপনে তার কর্মস্থল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল বলে উল্লেখ করা হয়। সরকারি কর্মকর্তা হয়েও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিত ব্যবসা-বানিজ্য ও ম্যাক্স হাসপাতালের শেয়ার থাকার অভিযোগ পায় তদন্ত কমিটি। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই বিভাগীয় মামলা করেছে।
জানা যায়, সরকারি চাকরি করলেও ডা. মাহফুজ রায়হান চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের উল্টো দিকে রাস্তার ওপারেই গড়ে উঠা ম্যাক্স হাসপাতালে মালিকানা রয়েছে এমন অভিযোগ পায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এনিয়ে সম্প্রতি আরও কয়েকজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার ঘটনা ঘটেছে। ডা. মাহফুজ রায়হানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় বলে প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়।
এনিয়ে গত ১৬ জুলাই এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী সাক্ষর করেছেন। প্রজ্ঞাপনে তাকে পত্রপ্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা মোতাবেক তার বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত অথবা উপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
আনোয়ার হোসেন নামে এক ভুক্তভোগ জানান, অধিকাংশ রোগিদের ‘আমার বাজার’ থেকে দুধ তেল কিনতে বাধ্য করতো এবং অতিরিক্ত টেস্ট করাতো ডা. মাহফুজ রায়হান। আমার বাজার, ডেল্টা মেডিকেল, ম্যাক্স ফার্মেসীতে তার শেয়ার রয়েছে।
এ বিষয়ে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. মাহফুজ রায়হান মুঠোফোনে জানান, ম্যাক্স হাসপাতালে শেয়ার থাকা নিয়ে ১৯ জন ডাক্তারের নাম এসেছিল। তারমধ্যে আমিসহ বেশ কয়েকজন ডাক্তার যে শেয়ারগুলো কিনেছিল, তা এক বছর আগেই হস্তান্তর করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আগের একটি চুক্তিপত্র অনুযায়ী ভুলক্রমে আমাদের নামেও অভিযোগ এসেছে। এর জবাব দেয়া হয়েছে। ভুলক্রমে এইরকমভাবে আরো ৮-১০ জন চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় মামলার প্রজ্ঞাপন এসেছে বলে জানান তিনি।
পিএস



























original1787417799-20260822173831.jpg)











