• ঢাকা
  • শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ভুয়া ভর্তি দেখিয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিতে অভিভাবক সদস্য করার অভিযোগ


শরীয়তপুর প্রতিনিধি সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
ভুয়া ভর্তি দেখিয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিতে অভিভাবক সদস্য করার অভিযোগ

ছবি : প্রতিনিধি

শরীয়তপুর: শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর নীলমনি উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়ম-নীতি না মেনে অন্য বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে কাগজপত্রে ভর্তি দেখিয়ে তার বাবাকে ম্যানেজিং কমিটির ‘অভিভাবক সদস্য’ করার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ম্যানেজিং কমিটিতে পদ দেওয়ার কথা বলে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে।

অভিযোগের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক। অভিযোগকারীদের দাবি, নিজের প্রভাব বিস্তার ও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে প্রধান শিক্ষক অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে রুদ্রকর নীলমনি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে কাগজপত্রে অন্তর্ভুক্ত দেখিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, শরীয়তপুর সদর উপজেলার আঙ্গারিয়া ইবনে তাসলিমা নাসির স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির নিয়মিত শিক্ষার্থী রাসেল ঢালী তাওহীদ। অভিযোগ রয়েছে, গত এপ্রিল মাসে জালিয়াতি ও কাল্পনিক কাগজপত্রের মাধ্যমে তাকে রুদ্রকর নীলমনি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে খাতা-কলমে অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তা ধামাচাপা দিতে গত ২ জানুয়ারি তাকে নতুন করে ভর্তি দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ওই শিক্ষার্থীকে নীলমনি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে দেখানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল তার বাবা ছালাম ঢালীকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিতে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ‘অভিভাবক সদস্য’ করা। প্রকৃত অভিভাবকদের বাদ দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর অভিভাবককে সদস্য করায় সাধারণ অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, ম্যানেজিং কমিটিতে পদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি পক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ওই অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বিদ্যালয়ের সাবেক অভিভাবক কমিটির সদস্য এমদাদ ঢালী বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বানানোর কথা বলে একটি বিশেষ পক্ষের কাছ থেকে প্রধান শিক্ষক টাকা নিয়েছিলেন। পরে ওই ব্যক্তিকে সভাপতি বানাতে না পারায় এবং টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে আমাকে ডেকে সেই টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়। পরে বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক সুলতান শেখের মাধ্যমে টাকা আমার কাছে পাঠানো হলে আমি তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ফেরত দিয়ে দিই।’

এমদাদ ঢালী আরও বলেন, ‘জালিয়াতি করে একজন শিক্ষার্থীকে ভুয়া ভর্তি দেখিয়ে তার বাবাকে অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত করা হয়েছে। এটি খুবই দুঃখজনক।’

বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের শেখ বলেন, ‘বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির বিষয় নিয়ে আমার মাধ্যমে আজিজুল চৌকিদারের কাছ থেকে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক এক লাখ টাকা নিয়েছেন। পরে তাকে আর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করা হয়নি।’

বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক সুলতান শেখ বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশেই ওই অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমি যুক্ত ছিলাম।’

তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করেছেন রুদ্রকর নীলমনি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক। তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম, জালিয়াতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

অভিযোগের বিষয়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইলোরা ইয়াসমিন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে বের করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীর ভর্তি সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এসআই

Link copied!