ফাইল ছবি
নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণার পর চারদিকে আনন্দের হাওয়া লেগেছে। সরকারি দপ্তরগুলোতে শুরু হয়েছে নতুন বেতন নির্ধারণের তোড়জোর। তবে ঠিক একই সময়ে চরম অনিশ্চয়তার মেঘ জমেছে দেশের হাজার হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর আকাশে। সরকারি চাকরিজীবীদের পে-স্কেল বাস্তবায়নের কার্যক্রম পুরোদমে চললেও এমপিওভুক্তদের পৃথক প্রজ্ঞাপন নিয়ে কোনো সুখবর দিতে পারছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে তিনটি অধিদপ্তরের অধীন জনবলের বাজেট হিসেব করতে হবে। সেই তথ্য যাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ে। সেখান থেকে আনুষ্ঠানিক সম্মতি মেলার পরই কেবল জারি হতে পারে বহুল প্রতীক্ষিত প্রজ্ঞাপন। এই জটিল ও দীর্ঘ দাপ্তরিক প্রক্রিয়ার চক্রে আটকে গেছে শিক্ষকদের ভাগ্যের চাকা। কবে এই জট খুলবে, তার স্পষ্ট কোনো উত্তর নেই কর্মকর্তাদের কাছেও।
অন্যদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মেলাচ্ছেন নতুন স্কেলের অংক। নতুন বেতন কাঠামোয় কার মূল বেতন কত হবে, তা বের করার নিয়মটি রাখা হয়েছে বেশ সহজ। জুনের শেষ দিনের মূল বেতন, বর্তমান গ্রেড এবং নতুন স্কেলের ধাপ হিসেব করলেই মিলছে কাঙ্ক্ষিত জবাব।
পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বা সর্বনিম্ন ধাপে থাকা কর্মচারীদের বেতন নতুন স্কেলের শুরুতেই নির্ধারিত হচ্ছে। আর যারা কিছুটা সময় পার করে মাঝামাঝি ধাপে পৌঁছেছেন, তাদের আগের স্কেলের ব্যবধানটি যোগ হচ্ছে নতুন স্কেলের শুরুর অঙ্কের সঙ্গে। প্রাপ্ত যোগফল যদি নির্ধারিত কোনো ধাপের সঙ্গে না মেলে, তবে স্বস্তি দিয়ে তার পরের উচ্চতর ধাপেই নির্ধারণ করা হচ্ছে নতুন বেতন।
একদিকে নতুন বেতন নির্ধারণের আনন্দ আর হিসেব মেলানোর ব্যস্ততা, অন্যদিকে দীর্ঘশ্বাসের দীর্ঘ প্রহর। নিয়ম আর নথির ফ্রেমে বন্দি থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দিনবদলের স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত কখন আলোর মুখ দেখবে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
এসএইচ







































