• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

মিউচুয়াল ফান্ডের কাস্টডিয়ান হিসেবে অনুমোদন পেল সিডিবিএল


নিজস্ব প্রতিবেদক সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
মিউচুয়াল ফান্ডের কাস্টডিয়ান হিসেবে অনুমোদন পেল সিডিবিএল

ফাইল ছবি

ঢাকা: মিউচুয়াল ফান্ডের কাস্টডিয়ান হিসেবে কাজ করার অনুমোদন পেয়েছে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)। পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চলতি সপ্তাহে এ বিষয়ে সিডিবিএলকে সম্মতিপত্র দিয়েছে। এত দিন মূলত ডিপোজিটরি সেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটি এখন মিউচুয়াল ফান্ডের সম্পদ সংরক্ষণ, হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং লেনদেন পরিচালনার দায়িত্বও নিতে পারবে।

সিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল মোতালেব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সম্মিলিত তহবিলের ইউনিটধারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করবে সিডিবিএল। তিনি জানান, কয়েকটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান তাদের পরিচালিত মিউচুয়াল ফান্ডের কাস্টডিয়ান হিসেবে সিডিবিএলকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছে।

মিউচুয়াল ফান্ডের কাস্টডিয়ানদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন ওঠার মধ্যেই সিডিবিএলকে এ অনুমোদন দেওয়া হলো। ফান্ড ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও জালিয়াতি ঠেকাতে কাস্টডিয়ানদের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে এর আগে অভিযোগ ও আলোচনা হয়েছে।

সংশোধিত মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালায় কাস্টডিয়ানদের দায়িত্ব ও ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, ফান্ডের সম্পদ নিরাপদে সংরক্ষণের পাশাপাশি ইউনিটধারী ও ফান্ডের হিসাব সংরক্ষণ এবং ব্যাংকিং লেনদেন পরিচালনার দায়িত্বও কাস্টডিয়ানের ওপর দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান একই ফান্ড ব্যবস্থাপনায় একাধিক ভূমিকা পালন করতে পারবে না। বর্তমানে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশসহ (আইসিবি) কয়েকটি প্রতিষ্ঠান একই সঙ্গে ট্রাস্টি ও কাস্টডিয়ানের দায়িত্ব পালন করছে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের পরিধি কমাতে হবে। ফলে ভবিষ্যতে কাস্টডিয়ান হিসেবে সিডিবিএল এসব ফান্ডের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

সিডিবিএলের নতুন ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার পেছনে আর্থিক বিষয়ও রয়েছে। পুঁজিবাজারে লেনদেন কমে যাওয়ায় সিকিউরিটিজ নিষ্পত্তি থেকে প্রতিষ্ঠানটির আয় কমেছে। তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের প্রতি ১০ লাখ টাকা লেনদেন নিষ্পত্তির জন্য সিডিবিএল ২৫ টাকা করে পায়। ফলে বাজারে দৈনিক লেনদেন কমে গেলে এ খাত থেকে প্রতিষ্ঠানটির আয়ও কমে যায়।

এর পাশাপাশি বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ফিও কমানো হয়েছে। প্রতিটি বিও হিসাবের বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ফি ১০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ টাকা করা হয়েছে। এতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ থেকে সিডিবিএলের আয় আগের বছরের ১৩ কোটি টাকার বেশি থেকে কমে প্রায় ৭ কোটি টাকায় নেমে আসে।

সব মিলিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সিডিবিএলের পরিচালন মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশের বেশি কমে ৫২ কোটি ২০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। হারানো আয় পুষিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানটি নতুন ব্যবসার সুযোগ খুঁজছে।

মিউচুয়াল ফান্ডে কাস্টডিয়ানদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনার অন্যতম বড় ঘটনা ইউনিভার্সাল ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশনসের (ইউএফএস) পরিচালিত তিনটি ওপেন-এন্ডেড ফান্ড থেকে ২০ কোটি ৭০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।

এসব ফান্ডের কাস্টডিয়ান ছিল আইসিবি। অভিযোগ অনুযায়ী, কাস্টডিয়ানের পক্ষ থেকে কার্যকর বাধা ছাড়াই ওই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। ইউএফএসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হামজা আলমগীর ২০২২ সালের অক্টোবরে ওই অর্থ নিয়ে দুবাই চলে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কাস্টডিয়ানদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। কাস্টডিয়ানদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আগের বিধিমালায় তাদের দায়িত্ব ও ক্ষমতা এমনভাবে নির্ধারিত ছিল না, যাতে সম্মিলিত তহবিলে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ যথাযথভাবে সুরক্ষা করা সম্ভব হয়।

এএইচ/পিএস

Link copied!