• ঢাকা
  • বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

শিশু আয়াত হত্যা মামলায় আবিরের মৃত্যুদণ্ড


নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৭, ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
শিশু আয়াত হত্যা মামলায় আবিরের মৃত্যুদণ্ড

ফাইল ছবি

চট্টগ্রামে পাঁচ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণ ও হত্যার পর মরদেহ কেটে ছয় টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে একমাত্র আসামি আবির মিয়ার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। গত শনিবার মামলাটির যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হওয়ার পর রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়েছিল। আদালতের পিপি জালাল উদ্দিন জানান, এ মামলায় মোট ৩৩ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার নয়ারহাট ওয়াছ মুন্সী বাড়ির বাসিন্দা সোহেল রানার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়। ওই দিন বিকেলে ঘরের পাশে মসজিদে আরবি পড়তে গিয়ে আর ফিরে আসেনি সে।

ঘটনার তদন্তে নেমে প্রতিবেশী আবিরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আবির স্বীকার করেন, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণ করেছিলেন তিনি। কিন্তু কোথাও রাখার জায়গা না পেয়ে আয়াতদের নিচতলার একটি খালি বাসায় শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করেন। এরপর লাশ ছয় টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেন।

পিবিআই জানায়, আয়াতকে হত্যার পর তার বাবার কাছে টাকা দাবি করার পরিকল্পনা করেছিলেন আবির। সে জন্য একটি নতুন মোবাইল ও কুড়িয়ে পাওয়া সিম সংগ্রহ করলেও সিমটি সচল না থাকায় তিনি আর ফোন করতে পারেননি। হত্যাকাণ্ডের ১৬ দিন পর ৩০ নভেম্বর আউটার রিং রোডের আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন স্লুইসগেটের গর্ত থেকে আয়াতের দুই পা এবং পরদিন খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পিবিআই। আবিরের বাসায় পাওয়া রক্তের ডিএনএর সঙ্গে আয়াতের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই। সেখানে আবিরকে মূল অভিযুক্ত করা হলেও তথ্যপ্রমাণ না থাকায় তার বাবা, মা ও বোনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ আদালত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত রায় প্রদান করলেন।

এসএইচ 

Link copied!