ফাইল ছবি
২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়েছেন লিওনেল মেসি। তবে এমন অবিস্মরণীয় কীর্তির ম্যাচেও আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ম্যাচের এক পর্যায়ে আলজেরিয়ান ডিফেন্ডার আইসা মান্দির ওপর করা মেসির একটি বিপজ্জনক ফাউল ঘিরে এখন ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় চলছে। খোদ প্রশ্ন উঠেছে, ফাউলটি স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও কেন রেফারির নজর এড়িয়ে গেলেন এই মহাতারকা?
ম্যাচের একটি বল দখলের লড়াইয়ে মেসি বেশ আনাড়িভাবে চ্যালেঞ্জ করে বসেন মান্দিকে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বলের নাগাল না পেয়ে মেসির বুটের স্টাড সরাসরি আইসা মান্দির কাফ পেশির পেছনের অংশে আঘাত করে। ফাউলটি এতটাই বিপজ্জনক ছিল যে তাৎক্ষণিকভাবে আলজেরিয়াকে ফ্রি-কিক দেওয়া হলেও রেফারি মেসিকে কোনো কার্ড দেখানোর প্রয়োজন বোধ করেননি।
অবাক করার বিষয় হলো, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-ও এই ঘটনার পর নীরব ছিল এবং কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। যদিও ফাউল করার পরপরই মেসি স্পোর্টসম্যানশিপ দেখিয়ে মান্দির কাছে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে নেন, কিন্তু তা ফুটবল দুনিয়ার বিতর্কের আগুন নেভাতে পারেনি।
ম্যাচ শেষে ইএসপিএন এফসির টকশোতে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন ফুটবল বিশ্লেষক আলে মোরেনো এবং নেদুম ওনোহা। মোরেনো সরাসরি রেফারিংয়ের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, বড় তারকা খেলোয়াড়েরা কি রেফারিদের কাছ থেকে সব সময়ই বিশেষ বা পক্ষপাতমূলক সুবিধা পান? বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি এতটাই গুরুতর ছিল যে তা স্পষ্ট লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নেটিজেনদের মধ্যে চলছে সমালোচনার বন্যা। ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা প্রশ্ন তুলছেন, বিশ্বকাপের মতো আসরে এমন একটি বিপজ্জনক ফাউল কোনো কার্ড ছাড়া কীভাবে পার পেয়ে যায়? একজন সমর্থক তো রেফারির এই সিদ্ধান্তকে পাগলামি বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের অনেকের ধারণা, বিশ্বকাপের শুরুতেই অতিরিক্ত কার্ড প্রদর্শনের ফলে বিতর্কের মুখে পড়া রেফারিরা হয়তো কিছুটা নরম হওয়ার কৌশল অবলম্বন করেছেন। টুর্নামেন্টের শুরুতেই তিনটি লাল কার্ডের নির্দেশনায় বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছেন, যা এড়াতে ফিফা হয়তো রেফারিদের একটু সহনশীল হওয়ার সুপ্ত নির্দেশনা দিয়েছে। আর সেই সুযোগেই হয়তো বড় ধরনের কোনো শাস্তি থেকে বেঁচে গেছেন মেসি।
রেফারির এই নমনীয় সিদ্ধান্ত ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জন্য বড় আশীর্বাদ হিসেবে এসেছে। বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে যেকোনো দুটি ম্যাচে হলুদ কার্ড পেলে পরের ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা কাটাতে হয়। নকআউট পর্বের আগে অধিনায়ক মেসিকে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে দেখতে চাইবে না আর্জেন্টিনা। ফলে মাঠের লড়াইয়ে মেসির এই অদৃশ্য সুবিধাটি আলবিসেলেস্তে দলকে টুর্নামেন্টের সামনের পথচলায় বাড়তি স্বস্তি দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী ম্যাচগুলোতে রেফারিদের এমন নরম দৃষ্টিভঙ্গি বজায় থাকে কি না, নাকি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফিফা কোনো বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করে।
এসএইচ







































