ঢাকা: দৈনিক ১২০ টাকা, মাসে ৩০ দিন কাজ করলে ৩ হাজার ৬০০ টাকা। এটা হচ্ছে দেশের চা শ্রমিকদের বেতন। এই বেতনে দৈনিক নুন্যতম ২৩ কেজি চা পাতা তুলতে হয় তাদের। দিনশেষে ১২০ টাকা মজুরি নিয়ে ঘরে ফেরেন একেকজন চা শ্রমিক। তা দিয়েই চলে তাদের সংসার।
তাদের মজুরি কম না বেশি সেটা নিয়ে আমার কোনো কথা নেই! তবে চিন্তা করে পাই না, বর্তমান বাজারে ১২০ দিয়ে তারা কীভাবে চলেন। তাদেরও বউ-বাচ্চা আছে, সংসার আছে, ভালো-মন্দ খেতে মন চায়।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে যেখানে ৫০০ টাকা নিয়ে বাজারে যেতেও ভয় লাগে। সেখানে ১২০ টাকায় কেমন বাজার মিলবে তার একটা ধারণা দিতে গিয়ে আমার মাথাটাই নষ্ট হয়ে গেছে!
চিকিৎসা খরচ, বাচ্চাদের লেখাপড়ার খরচ, পোশাক-আশাক, বিনোদন, অন্যান্য সব বাদ দিলাম। ধরে নিলাম ১২০ টাকা মজুরি দিয়ে শুধু বাজার করে খান তারা, তবুও কি সম্ভব?
সারা সপ্তাহ যেভাবেই যাক শুক্রবার বাবা-মার কাছে একটু ভালো খাবার আশা করে ঘরের বাচ্চারা। চা শ্রমিকদের বাচ্চারাও হয়তো এরকমই। তারাও হয়তো বলে, বাবা আজকে কিন্তু বাজার থেইকা ভালো কিছু আইনো, বা আজকে মাছ দিয়া ভাত খামু অথবা গোশত খামু!
যাই হোক, চলুন দেখি ১২০টাকা নিয়ে বাজারে গেলে কি কি পাওয়া যেতে পারে।
প্রথমে যাই মাছের বাজারে
সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী রাজধানীর মাছের বাজারে শুক্রবারের (২৬ আগস্ট) দাম অনুযায়ী রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৪৫০ টাকা। তেলাপিয়া, পাঙাস মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা। শিং মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৬০ টাকা। কৈ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। পাবদা মাছের কেজি ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা।চিংড়ির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। আর এক কেজি ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা। ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা। আর ৪০০-৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। একেবারে ছোট ছোট ঝাটকা বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩৫০ টাকা কেজি দরে।
এগুলা কোনোটিই নেয়ার সাধ্য নেই চা শ্রমিকের। হয়তো ঘুরতে ঘুরতে বাজারের একেবারে শেষ মাথায় দাড়ি ওয়ালা এক মুরব্বি ছোট ছোট পোয়া মাছ নিয়ে বসে আছেন, সেখানে গিয়ে দাঁড়ালেন। মাছগুলো একেবারে খারাপ না, অনেকটার পেটটা একটু ফেটে গেছে, দামাদামি করে ৭০ টাকা কেজি হিসেবে আধা কেজি নিয়ে নিলেন ৩৫ টাকায়!
মাছতো হলো এবার চলুন সবজির বাজারে
রাজধানীর বাজার ঘুরে সবচেয়ে কম দামের সবজি পাওয়া গেলে পটল, কেজি ৩০ টাকা। এছাড়া পেঁপের কেজি ৪০ টাকা, ধুনধুলের কেজি ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৫০ টাকা, পিস বিক্রি করে ২০ টাকায়। লম্বা বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা। গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। চাল কুমড়া পিস ৫০ টাকা, প্রতি পিস লাউ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, করলা ৮০ টাকা,কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।
অনেক ভেবে চিন্তে ২০ টাকায় এক পিস মিষ্টি কুমড়া নিলেন, আধা কেজি পটল নিলেন ১৫ টাকায়। আলু ছাড়া চলে না তাই এককেজি আলু নিলেন ৩০ টাকায়। বাজারে নতুন ওঠা সিমের দাম জিজ্ঞেস করে মাথা ঘুরে পড়ে যেতে নিছিলেন শ্রমিক মসাই! সিমের কেজি ১৬০ টাকা। গত সপ্তাহে ছিলো ২২০ টাকা।
ঘরে মরিচ নাই, বউ কইছে কাঁচা মরিচ নিতে, ১০ টাকার কাঁচামরিচও নিলেন। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে।শুকনা মরিচের কেজি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা।
বাজারে লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। শসা কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। কিন্তু ১২০ টাকা মজুরির শ্রমিকদের লেবু-শসা খাওয়া মানায় না ভেবে হয়তো নিলেন না!
বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকায়। এগুলোর চিন্তা মাথায় না নিয়ে আস্তে আস্তে মুরগির দোকানের দিকে গেলেন চা শ্রমকি!
কিন্তু পকেটে হাত দিয়ে দেখলেন আছে মাত্র ১০ টাকা। কী করবেন তিনি। ভেবে চিন্তে একটা ডিম নিলেন পকেটে করে, যেন আবার ভেঙে না যায়। দুই ছেলে আধাখান করে খাবে!
শুক্রবার বাজারে ডিমের ডজন ১২০ থেকে ১২৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে।এক সপ্তাহ আগে যা ছিলো ১৩০ টাকা।
চা শ্রমিকের বাজারের টাকা শেষ। এরমধ্যে আসল খাদ্য চাল, সেটা কিন্তু কেনা হয়নি। কী অদ্ভুত এই মজুরি কাঠামো!
ছোট্ট একটা ব্যাগে মোট আড়াই কেজির মতো বাজার। ধূমপানের অভ্যাস আছে, তাই পরিচিত একজনের কাছ থেকে একটা বিড়ি চেয়ে নিয়ে টানতে টানতে বাড়ির পথ ধরলেন তিনি!
এবার আসুন বাজারের অন্যান্য জিনিসের দামটা একটু জেনে নেই
বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে। ব্রয়লার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা। সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা। লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৭০ টাকায়।
দাম বেড়েছে চিনির। খোলা প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। এছাড়া প্যাকেট চিনি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকায়। এছাড়াও লালা চিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।
দেশি মুশুরের ডালের কেজি ১৩০ টাকা। ভারতীয় মুশুরের ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়।
বাজারে আবার বেড়েছে খোলা আটার দাম। কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৭ থেকে ৫৮ টাকায়। গত সপ্তাহে খোলা আটার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা। ২ কেজির প্যাকেট আটার এখন বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকা। ২ কেজির প্যাকেট আটা আগে বিক্রি হত ১১০ টাকায়।
বাজারে ৭ টাকা বাড়ানোর পর নতুন দামের ভোজ্যতেল না আশায় আগের দামেই তেল বিক্রি হচ্ছে। ভোজ্যতেলের লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা।
সোনালীনিউজ/আইএ







































