ফাইল ছবি
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ নিতে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে গঠিত পর্যালোচনা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই বৈঠক থেকেই আসতে পারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের শুরুতেই, অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই এই নতুন পে স্কেল কার্যকর হতে যাচ্ছে।
কমিটির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো আভাস দিয়েছে, এবারের পে স্কেলে নিচের স্তরের কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পেতে যাচ্ছেন। বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমিয়ে আনতে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনা করে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার বেশি রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। ওপরের স্তরের কর্মকর্তারা তুলনামূলক কম সুবিধা পাবেন।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও নতুন বেতনকাঠামো জুলাই থেকেই বাস্তবায়ন করা হবে। সম্প্রতি নিজ কার্যালয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অর্থনীতির অবস্থা খারাপ এবং জিডিপির তুলনায় রাজস্ব সংগ্রহের অবস্থাও আশানুরূপ নয়। অনেক কিছু কাটছাঁট করতে হলেও সরকার নতুন বেতনকাঠামোর দিকটা অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
কমিশনের মূল সুপারিশ একবারে বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে চালু থাকা ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নতুন বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করায় এই ব্যয়ের চাপ কমে ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই হিসাব মাথায় রেখেই আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে কমিশনের সম্পূর্ণ সুপারিশ একবারে নয়, বরং তিন ধাপে বাস্তবায়ন হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাজেট সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বৈঠকে এই রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
নতুন পে স্কেলে সরকারি পেনশনভোগীদের সুবিধাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পেনশনভোগীদের জন্য পেনশনের হার শতভাগের কাছাকাছি বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
সুপারিশ অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান এমন ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যাদের মাসিক পেনশন ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে, তাদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। আর ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী, নবম পে স্কেলের আওতায় শুধু প্রশাসন ক্যাডার নয়, বরং শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন ও বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সরকারি সব খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বিষয়েও চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকবে।
আজকের পুনর্গঠিত কমিটির বৈঠকে সুপারিশগুলো চূড়ান্ত করার পর তা অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত মিললেই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে নবম জাতীয় পে স্কেল।
এসএইচ







































