ফাইল ছবি
নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে এখন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো-গ্রেড সংখ্যা কমানো হবে নাকি বেতন বৃদ্ধি করে বৈষম্য নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এই পে-স্কেল নতুন অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে তৈরি করা জরুরি, তাই কমিশনের সুপারিশই আগামী সময়ে সরকারের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জাতীয় বেতন কমিশনের সূত্র জানাচ্ছে, গ্রেড সংখ্যা নির্ধারণ এবং সর্বনিম্ন-সর্বোচ্চ বেতন ঠিক করা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ২০টি গ্রেড রয়েছে। কমিশনের একাংশ মনে করছে, বিদ্যমান গ্রেড রেখেই যৌক্তিক হারে বেতন বাড়ানোই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত। তবে অন্য একটি অংশ গ্রেড কমিয়ে ১৬ করার পক্ষে, কারণ তাদের ধারণা, কম গ্রেড হলে বেতন বৈষম্য স্বাভাবিকভাবে কমে। তদুপরি একটি অংশ আরও এগিয়ে ১৪ গ্রেড প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের যুক্তি, বর্ধিত গ্রেড সংখ্যা বেতন বৈষম্য আরও বাড়াবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু গ্রেড সংখ্যা কমানোই সমস্যা সমাধান নয়। বেতন কাঠামোর লজিক, সরকারি চাকরির ধরণ ও দায়িত্বের সঙ্গে মেলানোও জরুরি। কমিশন সূত্রে জানা যায়, এই দিকগুলোও খুঁটিয়ে যাচাই করা হচ্ছে। সরকারের চ্যালেঞ্জ হলো-একদিকে কর্মচারীর জীবনমান উন্নত করা, অন্যদিকে অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কমিশন সদস্য বলেন, মধ্য জানুয়ারির মধ্যেই সুপারিশ জমা দিতে চায় কমিশন। তবে প্রয়োজন হলে তা আগেও হতে পারে। পূর্ণ কমিশনের একাধিক সভার পরই নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গ্রেড সংখ্যা চূড়ান্ত করতে হলে সব সদস্যের মতৈক্য থাকা বাধ্যতামূলক।
পেশাগত বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, নতুন পে-স্কেল সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য শুধুমাত্র অর্থনৈতিক বিষয় নয়, সরকারি কর্মসংস্থানের গঠন পরিবর্তনেও প্রভাব ফেলবে। গ্রেড কমানো মানে সহজে পদোন্নতি ও উচ্চ বেতনের সুযোগ সীমিত হওয়া, আর বেতন বৃদ্ধি মানে সরকারকে বরাদ্দ বাজেট পুনঃবিন্যাস করতে হবে।
সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে নবম পে-স্কেলের ভবিষ্যৎ। বিশ্লেষকরা মনে করেন, যদি গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে বেতন বৈষম্য কমানো হয়, তা দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য হবে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি কর্মচারীর জীবনমান এবং ন্যায্যতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, বেতন বৃদ্ধির পথে গেলে সরাসরি অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পাবে, কিন্তু চাকরিজীবীদের প্রণোদনা এবং জীবনমান উন্নত হবে।
শেষ কথা, নবম পে-স্কেলের সাফল্য নির্ভর করছে কৌশলগত সমন্বয়, বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং সরকার-কমিশন সমঝোতার ওপর। বেতন বাড়ানো নাকি গ্রেড কমানো-ফলে যা হোক, চাকরিজীবী এবং দেশের অর্থনীতির ভারসাম্যকে মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এসএইচ







































