• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে কিন্ডারগার্টেন স্কুল


সোনালীনিউজ ডেস্ক জানুয়ারি ২২, ২০২২, ০৯:৩৭ পিএম
ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে কিন্ডারগার্টেন স্কুল

ঢাকা: লাগামহীনভাবে ব্যাঙের ছাতার মতো বেড়েছে যত্রতত্র কিন্ডারগার্টেন গড়ে তোলার প্রবণতা। সরকারের সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, সাড়ে ৩০০টি কিন্ডারগার্টেন স্কুল অনুমোদন পেলেও গজিয়ে উঠেছে হাজার হাজার। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান ছোট পরিসরে শুরু করলেও এখন স্কুল অ্যান্ড কলেজ নাম দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কার্যক্রম।

বাংলা মাধ্যমের পাশাপাশি এসব কিন্ডারগার্টেনের কোনো কোনোটি ইংরেজি মাধ্যমও চালু করেছে। সেখানে প্লে-গ্রুপ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হচ্ছে। অথচ অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানেরই সর্বোচ্চ পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানোর কথা।

ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠান পাড়া-মহল্লায় চটকদার ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আসছে। এসব বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে অভিভাবকরাও তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তুলে দিচ্ছেন কিন্ডারগার্টেনগুলোর সংশ্লিষ্টদের হাতে। অস্বাস্থ্যকর ঘিঞ্জি পরিবেশে চলছে ক্লাস-পরীক্ষা। নেই পর্যাপ্ত শিক্ষকও। যারা এসব কিন্ডারগার্টেনে পাঠদান করছেন, তাদের অধিকাংশই আবার কলেজপড়ুয়া। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের কথা বলে দিনের পর দিন তাদের দিয়েই চলছে ক্লাস-পরীক্ষা।

জানা গেছে, পাবলিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনে এসব কিন্ডারগার্টেনের অনুমোদন না থাকলেও অন্য স্কুলের নামে তারা রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নিজেদের শিক্ষার্থীদের পাবলিক পরীক্ষায় বসাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভুঁইফোঁড় এসব স্কুলে ভর্তি হয়ে কোমলমতি শিশুরা শিক্ষাজীবনের শুরুতেই যথাযথ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনভিজ্ঞ শিক্ষক, সঠিক সিলেবাসের অভাব এবং উপযুক্ত গাইডলাইন না থাকায় মানসম্মত শিক্ষার ছিটেফোঁটা পাচ্ছে না তারা। ফলে উচ্চস্তরে গিয়ে ঝরে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। দ্রুত এ সংক্রান্ত আইন বাস্তবায়ন না হলে কিন্ডারগার্টেনের নামে লাগামহীন ‘শিক্ষাবাণিজ্য’ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না।

ইচ্ছেমতো ভর্তি ফি, টিউশন ফি আদায়
সরেজমিন দেখা গেছে, রাজধানীর উত্তর শ্যামলীর ১৮৬ ভূঁইয়া গলিতে গড়ে তোলা হয়েছে ‘কর্ডিয়াল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। চারতলা একটি আবাসিক ভবনের নিচতলা ভাড়া নিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। অন্ধকারাচ্ছন্ন চারটি কক্ষে চলে ক্লাস-পরীক্ষা। বাংলা ও ইংরেজি, দুই মাধ্যমই চালু রয়েছে এখানে। সারা বছরই শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়।

স্কুলের ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, টিনশেড বাড়ির মতো সারিবদ্ধ চারটি কক্ষ। সেখানেই দুটি শিফটে প্লে-গ্রুপ থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ক্লাস করানো হয়। মোট শিক্ষার্থী তিন শতাধিক। তবে শিক্ষক মাত্র সাতজন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী। শ্রেণিকক্ষ ছোট হওয়ায় শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসতে হয়। ইচ্ছেমতো ভর্তি ফি, টিউশন ফি নির্ধারণ করে কর্তৃপক্ষ। পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের বাইরেও তিন থেকে পাঁচটি বই অতিরিক্ত পড়ানো হয়। সেজন্য বাড়তি ফিও আদায় করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বছরজুড়ে এখানে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়। ইচ্ছেমতো নিজেরাই তৈরি করেন সিলেবাস। ফিও নির্ধারিত নয়। যার থেকে যেমন খুশি অর্থ আদায় করা হয়। তবে প্রাথমিকে সর্বনিম্ন ৮০০ টাকা এবং মাধ্যমিকে এক হাজার ৪০০ টাকা টিউশন ফি আদায় করা হয়ে থাকে। খেলাধুলার জায়গা না থাকলেও ফি রয়েছে। এছাড়া আইডি কার্ড, সেশন চার্জ, নোট-গাইড ফি আদায় করা হয়।

‘মীরপুর ইম্পীরিয়্যাল স্কুল’র অনুমোদন না থাকায় জেএসসি ও এসএসসি শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন করানো হয় এমপিওভুক্ত ‘মিরপুর আদর্শ বিদ্যা নিকেতনে’। গেল বছর স্কুলটি থেকে জেএসসিতে ১১২ জন ও এসএসসিতে ৫৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। সবাই মিরপুর আদর্শ বিদ্যা নিকেতনে রেজিস্ট্রেশন করেছিল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীতে অসংখ্য এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে ভালো মানের শিক্ষক ও শিক্ষার অনূকূল পরিবেশ না থাকায় শিক্ষার্থী ভর্তি হয় না। অথচ কৌশলে সেসব প্রতিষ্ঠান অনুমোদন করিয়ে নিয়েছে। তারা এমপিওভুক্ত হওয়ায় যেসব সুবিধা পাচ্ছে, তা টিকিয়ে রাখতে অনুমোদনহীন স্কুলগুলো থেকে শিক্ষার্থী ধার করছে। অন্য স্কুলের শিক্ষার্থী দিয়ে তারা শর্তপূরণ করে বছরের পর বছর স্কুল চালাচ্ছে। অধীনস্থ এসব স্কুলগুলোকে অনুমোদনপ্রাপ্তরা ফিডিং স্কুল নামে অভিহিত করে থাকে। শুধু মিরপুরেই এ ধরনের অর্ধশতাধিক স্কুল-কলেজ রয়েছে।

সরকারি নজরদারি না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ খোদ বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শাহজাহানের।

তিনি বলেন, ‘সারাদেশে আগে হাতে গোনা ৫০টি কিন্ডারগার্টেন স্কুল খুঁজে পাওয়া যেতো না। এখন দেশে ৬০ হাজারের বেশি এমন স্কুল গড়ে উঠেছে। সেখানে দুই কোটি শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। কিন্ডারগার্টেন মূলত প্রাথমিক শিক্ষার জন্য। অথচ সেখানে অবৈধভাবে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনুমোদনহীন এসব স্কুল যুগ যুগ ধরে চললেও দেখার কেউ নেই। থানা পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও জানেন না, তার এলাকায় কতটি কিন্ডারগার্টেন চলছে। সেগুলোর মধ্যে কতটির অনুমোদন আছে, কতটি অবৈধ কিছুই জানা নেই তাদের। অনুমোদন ছাড়া স্কুলগুলোতে সরকারিভাবে পাঠ্যবই বিতরণ করা হচ্ছে। এতে তারা আরও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এসব প্রতিষ্ঠানে বই বিতরণ বন্ধ করতে একাধিকবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে (ডিপিই) জানানো হলেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছে না। ফলে প্রতিনিয়ত এমন ভুঁইফোঁড় স্কুলের সংখ্যা বাড়ছে।’

সোনালীনিউজ/এন

Link copied!