ছবি: প্রতিনিধি
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়-এর শহীদ মুখতার ইলাহী হলে একের পর এক চুরির ঘটনায় পাঁচ নিরাপত্তা প্রহরীকে বদলি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেন হলের প্রভোস্ট ড. মো. কামরুজ্জামান। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
সম্প্রতি হলে প্রায় দেড় লাখ টাকার একটি সুইচ, ডাইনিংয়ের কড়াই, চাল ও তেল চুরির অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের সাইকেল ও ল্যাপটপ চুরির ঘটনাও ঘটে। তদন্ত কমিটি প্রতিটি ঘটনায় নিরাপত্তা প্রহরীদের দায়িত্বে গাফিলতির বিষয়টি উল্লেখ করে এবং পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের সুপারিশ করে।
সুইচ চুরির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৬ মার্চ রাত পৌনে ১০টার দিকে হলের ইন্টারনেট সংযোগ হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আবাসিক শিক্ষার্থীরা বিষয়টি জানালে পরদিন আইসিটি সেলের টেকনিশিয়ান এসে দেখেন, দ্বিতীয় তলার সংযোগ বক্স থেকে একটি সুইচ চুরি হয়েছে। ঘটনার পরদিন সন্ধ্যায় হলের নিচতলার ১০২ নম্বর কক্ষের সামনে একটি পুরোনো লুঙ্গিতে মোড়ানো অবস্থায় সুইচটি উদ্ধার করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী দায়িত্বে থাকলেও কয়েকজন নিরাপত্তা প্রহরী নির্ধারিত স্থানে ছিলেন না। বিশেষ করে মো. শাহিন বেগ ডিউটির অনেক আগে হলে প্রবেশ করে বিভিন্ন তলায় ঘোরাঘুরি করছিলেন। অন্যদিকে মো. আব্দুর রাজ্জাক দায়িত্বের সময় অনুপস্থিত ছিলেন। প্রহরীদের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ভিডিও ফুটেজের মিল পাওয়া যায়নি। এমনকি ঘটনার সময় হলের প্রধান ফটকও অরক্ষিত ছিল।
তদন্ত কমিটি দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার কারণে মো. শাহিন বেগ ও মো. আব্দুর রাজ্জাককে অযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে হলের বর্তমান জনবল পরিবর্তন, দক্ষ নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, উন্নত মানের সিসিটিভি স্থাপন এবং ইন্টারনেট বক্সে নিরাপদ লকিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।
বদলি হওয়া পাঁচ নিরাপত্তা প্রহরী হলেন মো. মুর্তজা আলী, মো. মজিদ সরকার, মো. রাজ্জাক মিয়া, মো. শাহিন বেগ এবং মো. মনোয়ার হোসেন প্লাবন। তাঁদের আবাসিক হল থেকে নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা শাখায় বদলি করা হয়েছে।
অন্যদিকে তাঁদের পরিবর্তে নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা শাখা থেকে শহীদ মুখতার ইলাহী হলে দায়িত্বে এসেছেন মো. নাজমুল হক, মো. আতাউর রহমান, মো. আব্দুল ওয়াহেদ শামীম, মো. মাহমুদ আলম টিপু এবং মো. আনিসুল হক।
এসএইচ







































