• ঢাকা
  • শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

যেসব কারণে ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার


নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
যেসব কারণে ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার

ফাইল ছবি

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই অকৃতকার্য হয়েছেন। শুধু ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়েই ফেল করেছেন ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ জন শিক্ষার্থী।

আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

ইংরেজি বিষয়ে ফেল করেছেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন এবং আইসিটিতে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন। ফেল করা পরীক্ষার্থীদের আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

এবার শুধু অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বাড়েনি, কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৯৭। অর্থাৎ এক বছরে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন বা প্রায় ৪২ শতাংশ।

গত বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এবার তা কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য বেশি সময় ও পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়েছে। বড় সিলেবাসের কারণে অনেক শিক্ষার্থী মানসিক চাপেও পড়েছেন। এর পাশাপাশি গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে সব বোর্ডে অভিন্ন ও মানসম্মত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার প্রভাব ফলাফলে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এবার খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে বাড়তি নম্বর না দিয়ে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষা কেন্দ্রে কঠোর নজরদারি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়েছিল। এসব কারণেও পাসের হার কমে থাকতে পারে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশকেও ফল বিপর্যয়ের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন তাঁরা। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীরা কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। ওই সময় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার প্রভাবে অনেকে কলেজবিমুখ হয়ে পড়েন। নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি ও পড়াশোনায় মনোযোগের ঘাটতিও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার রেকর্ড হয়েছে। এবার পাসের হার ৫২ দশমিক ৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৯ জন। গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৩ হাজার ২০১ জন।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার কমে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে নেমেছে। বোর্ডের ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬১ হাজার ৮৯৪ জন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন জানান, শিক্ষার্থীরা খাতায় যা লিখেছেন, সে অনুযায়ী নম্বর পেয়েছেন। কাউকে বাড়তি নম্বর দেওয়া হয়নি।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৫০ জন। এ বোর্ডের ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা জানান, যথাযথ পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের মাধ্যমে ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মানবিক বিভাগে এবার পাসের হার সবচেয়ে কম। এ বিভাগে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩২ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছেন ৯০ হাজার ৬৬৪ জন। অন্যদিকে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৮০৩ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৪৭ জন। সব মিলিয়ে মানবিক বিভাগে পাসের হার ৪২ দশমিক ১৭ শতাংশ।

এসএইচ 

Link copied!