ফাইল ছবি
দেশের প্রাক্-প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ের ২ কোটি ৬০ লাখ শিশুর শিক্ষার মান বাড়াতে ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। এই অর্থ দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা অর্জন এবং বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে কাজ করা হবে।
শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক পর্ষদ ‘লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্সিলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন’ কর্মসূচির আওতায় এই অর্থায়নের অনুমোদন দেয়।
কর্মসূচিটির মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীরা যেন শ্রেণি অনুযায়ী পড়া, লেখা ও গণিতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে। পাশাপাশি সরকারের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নেও এ অর্থ সহায়তা করবে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় সর্বজনীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হলেও শেখার মানে এখনো ঘাটতি রয়েছে। দেশের ১০ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় অর্ধেকই বয়স উপযোগী সাধারণ লেখা পড়ে তা বুঝতে পারে না।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসম বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম কর্মশক্তি গড়ে তুলতে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। নতুন অর্থায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি ও বিদ্যালয়ে ধরে রাখার সুযোগ বাড়বে, যা ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করবে।
নতুন কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের সাক্ষরতা ও গণিতের ভিত্তি মজবুত করতে পাঠদানের উপকরণ, পরিকল্পিত পাঠক্রম এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণসহ একটি সমন্বিত প্যাকেজ চালু করা হবে। এ ছাড়া দেশের ৯০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নেতৃত্ববিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং বিদ্যালয়ের পরিচালনা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এডুকেশন স্পেশালিস্ট ও কর্মসূচির টিম লিডার তাশমিনা রহমান জানান, পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পাঠদান বা রেমিডিয়াল লার্নিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হবে এবং পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোতে এ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সরকারি বিদ্যালয়ে প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যার ফলে শিশুরা বিদ্যালয়ে ভর্তির আগেই শিক্ষার জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে পারবে।
বিশ্বব্যাংকের ধারণা, কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৮ লাখ ৪৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এ অর্থায়ন আসছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) কাছ থেকে। ২৫ বছর মেয়াদি এই ঋণের প্রথম পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে।
এসএইচ







































