ফাইল ছবি
পারিবারিক জীবনের নানা উত্থান–পতনের মধ্য দিয়ে যাওয়া কণ্ঠশিল্পী সালমা আবারও আলোচনায়, তবে এবার কোনো গান নয়-মেয়ের জন্মদিনে লেখা এক আবেগমাখা বার্তার কারণে। বড় কন্যা স্নেহার জন্মদিন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া সালমার দীর্ঘ পোস্টে উঠে এসেছে একজন মায়ের ভালোবাসা, অনুশোচনা, আশঙ্কা আর দোয়ার গল্প।
২০১১ সালে পারিবারিকভাবে দিনাজপুর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের সঙ্গে প্রথম বিয়ে হয় সালমার। সেই সংসারে জন্ম নেয় তাদের একমাত্র কন্যা স্নেহা। তবে বনিবনা না হওয়ায় ২০১৬ সালে সেই দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে।
এর তিন বছর পর আইনজীবী সানাউল্লাহ নূরেকে বিয়ে করেন সালমা। পরের বছরের জানুয়ারিতে সংবাদমাধ্যমের সামনে স্বামীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। তবে সাত বছরের মাথায় সেই সংসারেও বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আনেন সানাউল্লাহ নূরে।
দ্বিতীয় বিয়ের পর সামাজিক মাধ্যমে মেয়েকে খুব একটা সামনে আনতেন না সালমা। তবে সাম্প্রতিক বিচ্ছেদের পর কন্যা স্নেহাকে নিয়ে দেওয়া পোস্টে ভিন্ন এক সালমাকে দেখেছেন ভক্তরা।
স্নেহার জন্মদিন উপলক্ষে সালমা লেখেন, আজ আমার স্নেহার জন্মদিন, আমার বড় কন্যার। তুমি আমার প্রথম সন্তান। এই দিনে আমার কোল আলো করে এসেছিলে তুমি। তোমার মুখটা দেখার পর জীবন আমার পরিপূর্ণ হয়েছিল।
তিনি লেখেন, খুব অল্প বয়সে মা হয়েছিলাম আমি। তখন নিজেই ছিলাম শিশু। তোমাকে কীভাবে কোলে নেব, নরম শরীরে ব্যথা পাবে কি না—এই ভয়ে কত পাগলামিই না করেছি। সেই সময়ের কথা শুধু আমি আর তোমার নানিই জানি।
মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়েও গভীর উদ্বেগ আর আশা প্রকাশ করেন সালমা। তিনি লেখেন, এই নিষ্ঠুর দুনিয়ায় আমি কিছুই চাই না। চাই তুমি আর তোমার বোন সাফিয়া যেন সুখে-শান্তিতে থাকো। অনেক বড় হও, বাবার মুখ উজ্জ্বল করো। আকাশের মতো বিশাল হও, যেন কেউ সহজে আঙুল তুলে কিছু বলতে না পারে শুধু মেয়ে বলে।
সালমা আরও লেখেন, নিজেকে এমনভাবে গড়ে তুলবে যেন নিজের আলো নিজেই হতে পারো। অন্যের আলোয় ভরসা কোরো না। অন্ধকারে ফেলে গেলে জীবন চলা কঠিন হয়ে যাবে। নিজে আলো হলে যত বাধাই আসুক, নিজের আলোতেই পথ খুঁজে পাবে।
পোস্টের শেষাংশে মেয়ের জন্য দোয়া করে তিনি লেখেন, আল্লাহ তোমাকে সব সুখ ও শান্তি দান করুন। তুমি ভালো থাকলে আমার দুনিয়াটাই সুখের জান্নাত।
একজন জনপ্রিয় শিল্পীর পরিচয়ের বাইরে, এই লেখায় ধরা পড়েছে একজন মায়ের নির্ভেজাল ভালোবাসা ও জীবনের বাস্তব উপলব্ধি-যা পাঠকের মন ছুঁয়ে গেছে নিঃশব্দেই।
এসএইচ







































