ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো বলেছেন, তিনি তার নোবেল শান্তি পুরস্কারের মেডেলটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘উপহার’ দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এই পুরস্কারটির প্রতি তার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে আসছিলেন, যদিও নোবেল কমিটি জানিয়েছে, এই পুরস্কার হস্তান্তরযোগ্য নয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠকের পর মার্কিন ক্যাপিটলের বাইরে সাংবাদিকদের মাচাদো বলেন, ‘আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের মেডেলটি উপহার দিয়েছি।’
মাচাদোকে ভেনেজুয়েলা শাসনের অনুপযুক্ত হিসেবে এর আগে বর্ণনা করা ডোনাল্ড ট্রাম্প মেডেলটি নিজের কাছে রেখেছেন কি না তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
মাচাদো এই ঘটনার সঙ্গে মার্কুইস দে লাফায়েতের একটি ঐতিহাসিক তুলনা করেন। ফরাসি এই কর্মকর্তা আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করেছিলেন। মাচাদো বলেন, লাফায়েত প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের ছবি সংবলিত একটি মেডেল ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক সিমন বলিভারের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।
মাচাদো বলেন, ‘ইতিহাসের ২০০ বছর পর, বলিভারের জনগণ ওয়াশিংটনের উত্তরসূরিকে একটি মেডেল ফেরত দিচ্ছে এবং সেটি নোবেল শান্তি পুরস্কারের মেডেল, যা আমাদের স্বাধীনতার প্রতি তার অনন্য অঙ্গীকারের স্বীকৃতিস্বরূপ।’
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে লিখেছে যে, এই সম্মানজনক পুরস্কারটি ‘বাতিল, ভাগাভাগি বা অন্য কারো কাছে হস্তান্তর করা যায় না’ এবং মেডেলটি শারীরিকভাবে হাতবদল হলেও বিজয়ীর নাম ‘চিরকাল অপরিবর্তিত থাকে’।
সামরিক পদক্ষেপ নিতে পছন্দ করা ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবারই যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিচ্ছিলেন এবং বেশ সোচ্চারভাবেই দাবি করে আসছেন যে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। অথচ মাচাদো যখন এই পুরস্কারটি জিতেছিলেন, তখন ট্রাম্প তাকে অবজ্ঞা করেছিলেন।
গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলায় একটি প্রাণঘাতী সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন, যার ফলে দেশটির বামপন্থী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হন। যুক্তরাষ্ট্র এবং আরও কিছু দেশ দীর্ঘ দিন ধরেই অনিয়মে ভরা নির্বাচনের কারণে মাদুরোকে অবৈধ শাসক হিসেবে অভিহিত করে আসছিল।
তবে অভিযানের পর ট্রাম্প বলেছিলেন, মাচাদোর নেতৃত্বে বিরোধী দলকে ওয়াশিংটন গত নির্বাচনে বিজয়ী মনে করলেও ভেনেজুয়েলা পরিচালনার মতো যথেষ্ট ‘সম্মান’ তিনি অর্জন করতে পারেননি।
মাচাদো অবশ্য তাদের বৃহস্পতিবারের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের ইতিবাচক বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, ‘ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতার জন্য আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর আস্থা রাখছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি জানেন এবং ভেনেজুয়েলার মানুষ কীভাবে কষ্ট পাচ্ছে সে বিষয়ে তিনি যত্নশীল।’
মাচাদো জানান, তিনি ট্রাম্পকে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার মানুষ ‘স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের সাথে বাঁচতে চায়, আমরা আমাদের সন্তানদের ঘরে ফিরে পেতে চাই এবং তার জন্য ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হতে হবে।’
এর আগে ট্রাম্প অবশ্য জানিয়েছিলেন যে, তিনি মাচাদোর সঙ্গে নয়, বরং মাদুরোর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হওয়া ডেলসি রদ্রিগুয়েজের সঙ্গে কাজ করবেন। ট্রাম্প তাকে হুমকির সুরে বলেছেন, মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে সুবিধা দেওয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবিগুলো না মানলে তার বিরুদ্ধেও শক্তি প্রয়োগ করা হবে।
এম







































