ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নির্ধারিত শান্তি আলোচনা হঠাৎ স্থগিত হওয়ায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠক আপাতত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সফর পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেছেন, আলোচনার আয়োজন ও সমন্বয় প্রক্রিয়া শুরু থেকেই জটিল এবং অনিশ্চিত ছিল।
এর আগে বুধবার স্বাক্ষরিত ১৪ দফা চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান অন্তত ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হয়। তবে চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না দেখা পর্যন্ত পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনা নিয়ে তেহরান সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার স্থগিত হওয়া শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য একটি বড় ধাক্কা হতে পারে। বিশেষ করে ইসরায়েল এখনও লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও চাপ বেড়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে ইরানের পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত দাবি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তা মেনে নেওয়া হবে না। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়টিকেও আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে চায়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুদ্ধ বন্ধের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য অর্জনের চেষ্টা করলেও তার ঘোষিত বেশ কয়েকটি লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। ফলে আগামী আলোচনাগুলোই নির্ধারণ করবে এই যুদ্ধবিরতি সাময়িক নাকি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ খুলে দিতে সক্ষম হবে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে এবং দ্রুত আলোচনার নতুন তারিখ ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে।
পিএস







































