ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা: সৌদি আরব তাদের উচ্চাভিলাষী ভিশন ২০৩০ উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কর্মশক্তি বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করেছে।
২০২৫ সালে সৌদি আরব রেকর্ডসংখ্যক ৫ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি পাকিস্তানি কর্মী নিয়োগ করেছে। এই নিয়োগকে দুই দেশের মধ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার লক্ষ্য সৌদি আরবের বিভিন্ন বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা।
এতেই থেমে থাকছে না সৌদি আরব। আগামী কয়েক বছরে আরও ৩ থেকে ৪ লাখ দক্ষ পাকিস্তানি কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই নিয়োগ কার্যক্রম ২০৩৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ এবং ভিশন ২০৩০-এর আওতায় চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পরিশ্রমী ও দক্ষ হিসেবে সুনামের কারণে পাকিস্তানি কর্মীরা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন।
এই উদ্যোগ সৌদি আরবের অবকাঠামো উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে এবং দেশটির অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ লক্ষ্যে সহায়তা করবে।
দক্ষ জনশক্তির চাহিদা পূরণে সৌদি আরবের জন্য পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠছে। এই কর্মসংস্থান বৃদ্ধি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিদেশে কর্মরত এসব শ্রমিকের পাঠানো রেমিট্যান্স পাকিস্তানের অর্থনীতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে।
রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অন্যদিকে, সৌদি আরবের জন্য এই সহযোগিতা উচ্চাভিলাষী প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তির ধারাবাহিক সরবরাহ নিশ্চিত করবে। পাকিস্তানের কর্মকর্তারা এই কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এই অংশীদারিত্বকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে উৎসাহিত করবে। সৌদি আরবের এই কর্মসংস্থান কৌশল পাকিস্তানি কর্মীদের কর্মনিষ্ঠা ও দক্ষতার প্রতি দেশটির ক্রমবর্ধমান আস্থারও প্রতিফলন।
উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট পক্ষ এই কর্মী নিয়োগ কার্যক্রম আরও সহজ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে আলোচনা করছে। পাকিস্তানি কর্মীরা এটিকে উন্নত জীবিকা এবং নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
সৌদি আরবের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও এই কর্মী প্রবাহ প্রকল্পভিত্তিক চাহিদা পূরণে বৈচিত্র্যময় দক্ষ জনশক্তির উৎস হবে। এই উদ্যোগ সৌদি আরবের তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে সরে এসে আধুনিক ও বহুমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনারই অংশ।
পাকিস্তানি শ্রমিকরা ভিশন ২০৩০-এর আওতায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাজ করার সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সাম্প্রতিক এই অগ্রগতি সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
সূত্র: টাইমস অব ইসলামাবাদ
এসআই





























-6a397791a3645-20260622190839.jpg)









