• ঢাকা
  • সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

তেলের দামে বড় ছাড় সৌদির, সুবর্ণ সুযোগ বাংলাদেশের


আন্তর্জাতিক ডেস্ক অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
তেলের দামে বড় ছাড় সৌদির, সুবর্ণ সুযোগ বাংলাদেশের

ফাইল ছবি

বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি ও ভূরাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বাঁক নিয়েছে জ্বালানি তেলের বাজার। এশিয়ার দেশগুলোর জন্য অপরিশোধিত তেলের দামে রেকর্ড ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরব। নভেম্বরের জন্য এশিয়ার ক্রেতাদের কাছে তাদের প্রধান গ্রেড ‘আরব লাইট’ ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি তিন ডলার কমানো হয়েছে।

এর ফলে গত ছয় বছরের মধ্যে এশিয়ার বাজারে সৌদি তেলের দাম নেমে এসেছে সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ে। এই মূল্যছাড়ের সুবাদে বাংলাদেশের মতো আমদানিকারক দেশগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমার এক সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরামকোর নতুন মূল্য নির্ধারণে নভেম্বর মাসে এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য আরব লাইটের অফিসিয়াল বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ওমান ও দুবাইয়ের গড় দামের চেয়ে ব্যারেলপ্রতি পাঁচ ডলার কম। এর আগে অক্টোবরে এই ছাড়ের পরিমাণ ছিল দুই ডলার।

অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ছাড় বেড়েছে তিন ডলার, যা ২০২০ সালের জুনের পর এশিয়ার বাজারে সর্বোচ্চ মূল্যছাড়। শুধু আরব লাইট নয়, মাঝারি ও ভারী গ্রেডের আরব মিডিয়াম এবং আরব হেভিসেলের দামেও ব্যারেলপ্রতি পাঁচ ডলার পর্যন্ত ছাড় দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল জায়ান্ট আরামকো।

বাজার বিশ্লেষকদের প্রাথমিক ধারণা ভুল প্রমাণিত করে দাম কমানোর এই পদক্ষেপে বড় ভূমিকা রেখেছে সামুদ্রিক পরিবহন বা ফ্রেইট খরচের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও সমুদ্রপথে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ায় তেলবাহী জাহাজের দৈনিক ভাড়া কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে চীনে তেল পরিবহনের সক্ষমতাসম্পন্ন বড় জাহাজের দৈনিক ভাড়া যেখানে এক বছর আগে ছিল ৮০ হাজার ডলারের কাছাকাছি, তা সম্প্রতি আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। পরিবহন খাতের এই অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কিছুটা পুষিয়ে নিতেই সৌদি আরব তেলের দাম হ্রাসের এই কৌশল বেছে নিয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসির মাধ্যমে সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী অংশীদার।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, দেশের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৩৫ শতাংশই আসে সৌদি আরব থেকে। ফলে সৌদির এই বড় অংকের মূল্যছাড় দেশের জ্বালানি আমদানিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলার কথা।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশের সাধারণ ভোক্তা পর্যায়ে এর কতটা সুফল মিলবে, তা নিয়ে রয়েছে নানা সমীকরণ। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, খুচরা বাজারে ডিজেল, পেট্রল বা অকটেনের মূল্য কেবল অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক দরের ওপর নির্ভর করে না।

এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে উচ্চ পরিবহন খরচ, বিমা ব্যয়, পরিশোধন, সংরক্ষণ ও শুল্কের হিসেব-নিকেশ। বর্তমান পরিস্থিতিতে সমুদ্রপথে বাড়তি ফ্রেইট বা পরিবহন খরচ মেটাতেই সৌদি ছাড়ের একটি বড় অংশ খরচ হয়ে যেতে পারে।

অঞ্চলভেদে ভিন্ন কৌশল নিয়ে চলা সৌদি আরামকো যেখানে এশিয়ার জন্য দাম কমিয়ে দিয়েছে, ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা গেছে পশ্চিমা বিশ্বে। উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর জন্য নভেম্বরে সব ধরনের তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি তিন ডলার বাড়ালেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের জন্য তা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, এশিয়ার আমদানিকারকদের জন্য এই ছাড় স্বস্তি আনলেও বাংলাদেশের প্রকৃত আর্থিক সাশ্রয় নির্ভর করবে আমদানি প্রক্রিয়ার সার্বিক ব্যয় এবং বিপিসির সুচারু ব্যবস্থাপনার ওপর।

এসএইচ 

Link copied!