• ঢাকা
  • সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

পুলিশের সহায়তায় যেভাবে পালান শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘পিচ্চি রাজা’


গাজীপুর প্রতিনিধ অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৮:০১ পিএম
পুলিশের সহায়তায় যেভাবে পালান শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘পিচ্চি রাজা’

ছবি: সংগৃহীত

আলোচিত ৩০ মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘পিচ্চি রাজা’র কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দীর্ঘ তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, গাজীপুর থেকে নয়, বরং পরিকল্পনা মাফিক রাজধানীর তাঁতীবাজার এলাকা থেকেই সুকৌশলে পালিয়েছিল সে।

এই চাঞ্চল্যকর পলায়ন নাটকের নেপথ্যে খোদ পুলিশ সদস্যদের সরাসরি সম্পৃক্ততার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা ও সহায়তার অভিযোগে পিচ্চি রাজার বোন এবং স্কট দলের দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মোড. ইসরাইল হাওলাদার।

পুলিশ কমিশনার সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, ২৯ জন বন্দিকে নিয়ে ঢাকা জেলা জজ কোর্ট থেকে প্রিজন ভ্যানটি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। পথিমধ্যে ভ্যানটি পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে এসে থামে। ঠিক তখনই স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর বিশ্বাস ড্রাইভার নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে প্রিজন ভ্যানের চাবি চেয়ে নেন।

এরপর তিনি আসামি পিচ্চি রাজা ও আরেক হাজতি আসামি বাশারকে ভ্যান থেকে নামিয়ে সামনের দিকে নিয়ে যান। এ সময় খাইরুল বাশারকে প্রিজন ভ্যানের ড্রাইভারের সিটের পাশে বসানো হলেও পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর আর গাড়িতে ওঠেননি। পূর্বপরিকল্পিতভাবে সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেট কারে চড়ে চম্পট দেয় দুর্ধর্ষ পিচ্চি রাজা।

পুলিশের তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে এক অভিনব সাজানো ঘটনার চিত্র। আসামি পালিয়ে যাওয়ার পরও রহস্যজনকভাবে চুপ ছিলেন এসআই প্রবীর। পরবর্তীতে রাত সাড়ে আটটার দিকে পূর্বনির্ধারিত ও এজাহারে বর্ণিত ঘটনাস্থলে এসে স্কট পার্টির সদস্যদের নিয়ে পুরো ঘটনার একটি সাজানো নাটক মঞ্চস্থ করা হয়।

ঘটনার নিখুঁত তথ্য-উপাত্ত, সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে অবশেষে পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা, স্কট লিডার এসআই প্রবীর কুমার এবং প্রিজন ভ্যানের ড্রাইভার নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ড্রাইভার কামালের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নগদ ৬০ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে দুর্ধর্ষ এই আসামিকে আট দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পুনরায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের হেফাজত থেকে আসামি ছিনতাই বা পলায়নের ঘটনায় ইতোমধ্যে দায়িত্বে অবহেলা ও সহায়তার দায়ে পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত দুজন ছাড়াও নজরদারিতে রাখা হয়েছে বাকি তিন পুলিশ সদস্যকেও। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরকার কিছু অসাধু সদস্যের সহায়তায় ঘটিত এই পলায়ন কাণ্ড পুলিশ প্রশাসনের ভেতরেই বড় ধরনের নাড়া দিয়েছে।

এসএইচ 

Link copied!