• ঢাকা
  • রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য অশনি সংকেত: জেজেইউ


নিজস্ব প্রতিবেদক নভেম্বর ১, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য অশনি সংকেত: জেজেইউ

ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান কর্তৃক লাইভে পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি (জেজেইউ)। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক সহনশীলতার প্রশ্নে এ ধরনের আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মনে করে সংগঠনটি।

জেজেইউর প্রতিবাদে বলা হয়, প্রকাশিত সংবাদ, সম্পাদকীয় অবস্থান কিংবা রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সঙ্গে কারও দ্বিমত বা আপত্তি থাকতেই পারে। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে সেই দ্বিমত প্রকাশ, সমালোচনা এবং প্রতিবাদের অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে। তবে মতপার্থক্য প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখা জরুরি।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির প্রকাশ্যে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা দায়িত্বশীল আচরণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর কোনো বক্তব্য বা অবস্থানের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের দ্বিমত থাকলে তা যুক্তি, তথ্য ও পাল্টা বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকাশের সুযোগ রয়েছে। একইভাবে সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করার অধিকারও সবার রয়েছে। তবে কোনো পক্ষেরই এমন আচরণ করা উচিত নয়, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে সংকুচিত করে।

জেজেইউ মনে করে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকা নয়; বরং স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ, মতামত তুলে ধরা এবং সমালোচনার জবাব দেওয়ার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা যেমন জরুরি, তেমনি রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকেও সংযত ও গণতান্ত্রিক আচরণ প্রত্যাশিত।

জেজেইউ মনে করে, গণমাধ্যমের কোনো প্রতিবেদনের জন্য কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তার প্রতিকারের শক্তিশালী মাধ্যম থাকলে হয়তো আজকের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। তাই এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেস কাউন্সিলকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ, সবার কাছে গ্রহনযোগ্য ও শক্তিশালী সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার দাবিও জানাচ্ছে জেজেইউ।

একইসঙ্গে সম্প্রতি দৈনিক আমার দেশ কার্যালয়ে ককটেল হামলার ঘটনায়ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে জেজেইউ। কোনো সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিক যেন ভয়ভীতি, হামলা কিংবা চাপের মুখে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্ত না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল স্বাধীন গণমাধ্যম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি (জেজেইউ) সংশ্লিষ্ট সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানাচ্ছে।

এসএইচ 

Link copied!