• ঢাকা
  • রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

নিবন্ধিত ৬০ দলের মধ্যে ভোটে নেই ৯টি


নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
নিবন্ধিত ৬০ দলের মধ্যে ভোটে নেই ৯টি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৯টি দল অংশ নিচ্ছে না। অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যেও বেশিরভাগই সীমিত আসনে প্রার্থী দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় পর নির্বাচন ঘিরে ভোটের আমেজ ফিরলেও বড় রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে কার্যকর বিকল্প শক্তি এখনো গড়ে ওঠেনি।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে অংশ না নেওয়া দলগুলো হলো—তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল, কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ, আওয়ামী লীগ, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, ন্যাপ, ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি নির্বাচনের বাইরে রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে ২৯টি দল মাত্র ১ থেকে ২০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে ২৩টি দলের প্রার্থী সংখ্যা ১ থেকে ১০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। বিপরীতে, বিএনপি ৩৩১টি, জামায়াতে ইসলামী ২৭৬টি, জাতীয় পার্টি ২২৪টি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১০০টির বেশি আসনে প্রার্থী দিতে পেরেছে গণঅধিকার পরিষদ। তবে বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে সম্ভাব্য আসন সমঝোতার কারণে চূড়ান্ত হিসাব এখনও পরিবর্তনশীল।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত আগের তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েই ছিল ব্যাপক বিতর্ক। ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ অনেক দল অংশ নেয়নি। ২০১৮ সালে দলগুলো অংশ নিলেও সেই নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ ছিল কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে। এবার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় দলটি ছাড়াও জাসদ ব্যতীত ১৪ দলের শরিকরাও নির্বাচনে নেই।

নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, বহু দল নিবন্ধিত থাকলেও তাদের সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল। নির্বাচন এলেই কেবল তৎপরতা দেখা যায়, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত রাজনৈতিক কার্যক্রম খুব সীমিত।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন টুলি বলেন, নিবন্ধিত দলগুলোর অন্তত ৩০টির ন্যূনতম ১০ শতাংশ আসনে প্রার্থী দেওয়া উচিত ছিল। বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না। ফলে দেশে কার্যকর রাজনৈতিক বিকল্প তৈরি হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, নিবন্ধনের শর্ত পূরণ করলেও অনেক দল নিয়মিত তা বজায় রাখে না। নির্বাচন কমিশন নিয়মিত তদারকি করলে অনেক দল হয় স্বেচ্ছায় নয়তো বাধ্য হয়ে হলেও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালু রাখবে।

অন্যদিকে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, “অনেক ছোট দল ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। কেউ কেউ আবার এটাকে নিছক রাজনৈতিক খেলা হিসেবেই দেখে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, জোটগতভাবে নির্বাচন করলেও এবার দলীয় প্রতীক ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকায় আদর্শ ও জনভিত্তিহীন দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। এতে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কাঠামোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এম

Wordbridge School
Link copied!