• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ মার্চ, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

তারেক রহমানকে বহনকারী ভিভিআইপি বিমানে গুরুতর ত্রুটি, তদন্তে বড় অনিয়ম


নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৭, ২০২৬, ১১:১৪ এএম
তারেক রহমানকে বহনকারী ভিভিআইপি বিমানে গুরুতর ত্রুটি, তদন্তে বড় অনিয়ম

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি এবং রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে গুরুতর অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যান্ত্রিক ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এই উড়োজাহাজ দিয়েই গত ২৫ ডিসেম্বর ভিভিআইপি ফ্লাইটে তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহন করা হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপপ্রধান প্রকৌশলী (বেস মেইনটেন্যান্স) মো. মনসুরুল আলমের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি সম্প্রতি এ প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন ব্যবস্থাপক (ফাইন্যান্স) আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সদস্য হিসেবে ছিলেন উপমহাব্যবস্থাপক, প্রশিক্ষণ (এয়ারক্রাফট/অ্যারো) মো. জুবিয়ারুল ইসলাম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ৯ ও ১৭ ডিসেম্বর উড়োজাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে একাধিক অনিয়ম ঘটে। বিশেষ করে ১০ ডিসেম্বরের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ মাত্র দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে শেষ করা হয়, যা বোয়িং ৭৮৭-৯ ধরনের বিমানের জন্য নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ত্রুটি নির্ণয় বা কার্যকারিতা পরীক্ষার বিস্তারিত কোনো রেকর্ডও তদন্ত কমিটির কাছে উপস্থাপন করা যায়নি।

তদন্তে আরও দেখা গেছে, মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে একই যান্ত্রিক ত্রুটি তিনবার দেখা দিলেও সেটিকে পুনরাবৃত্তিমূলক ত্রুটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। গত ২১ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে সিলেটগামী বিজি-২০২ ফ্লাইট আকাশে থাকার সময় উড়োজাহাজটির ভিএফএসজি সিস্টেম আবারও বিকল হয়ে যায়। তদন্ত কমিটির মতে, এ ধরনের ত্রুটির কারণে উড়োজাহাজটিতে অগ্নিকাণ্ড বা গিয়ারবক্সের বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকৌশল বিভাগের ভুল ত্রুটি নির্ণয় এবং পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিমানটিকে উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়ার ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল। এ অবস্থাতেই একই উড়োজাহাজ ভিভিআইপি ফ্লাইটে ব্যবহার করা হয়।

রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত সংক্রান্ত অব্যবস্থাপনার কারণে প্রায় ২৬ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বারবার যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, অন্য বিমান থেকে যন্ত্রাংশ খুলে এনে ব্যবহার এবং জরুরি পরিবহন ব্যয়ের ফলে এই অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে বলে তদন্তে বলা হয়েছে। কমিটি পুরো ঘটনাকে একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

প্রতিবেদনে বিমানের দুই প্রকৌশলী হীরালাল ও মো. সাইফুজ্জামান খানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কমিটির মতে, কম ফুয়েল প্রেসারের সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও যথাযথ যাচাই ছাড়া উড়োজাহাজটিকে ফ্লাইটের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রতিবেদন জমা পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি কর্তৃপক্ষ।

এম

Wordbridge School
Link copied!