নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে উত্তেজনা ও সংঘাত শুরু হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব ধীরে ধীরে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং রাজস্ব ঘাটতি বাড়ায় সরকারের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সরকারের রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। অর্থসংকটের কারণে তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে যাচ্ছে শিগগিরই। এর পরপরই অনুষ্ঠিত হবে বাজেট অধিবেশন। এ সময় পে স্কেলের বিষয়টি সংসদে আলোচনায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পাশাপাশি কমিশনের সুপারিশগুলো পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পূর্বে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের কথা বলেছিলেন। তবে বর্তমান আর্থিক বাস্তবতায় সেটি একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা কঠিন হওয়ায় ধাপে ধাপে এগোনোর পরিকল্পনা করা হতে পারে।
এদিকে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সম্প্রতি বৈঠক করেছেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ও পে কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খান। আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি পিকেএসএফ চেয়ারম্যান হিসেবে সাক্ষাৎ করলেও বৈঠকে পে কমিশনের সুপারিশ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এর আগে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পে কমিশনের সুপারিশগুলো ভালোভাবে পর্যালোচনা করেই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজস্ব পরিস্থিতি, ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত উপায়ে কতটুকু বাস্তবায়ন সম্ভব তা নির্ধারণ করা হবে।
অর্থ বিভাগ বলছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তাব থাকলেও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সেটি পুরোপুরি কার্যকর করা কতটা সম্ভব হবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ঘাটতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা দেশের অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে।
তবে সরকারি চাকরিজীবীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব না ফেলেই বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে সরকার। এজন্য কমিশনের সুপারিশগুলো পুনর্বিবেচনার পরিকল্পনাও রয়েছে। বাজেট প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলে এ বিষয়ে আরও অগ্রগতি হতে পারে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণে ২১ সদস্যের একটি পে কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে কমিশনের প্রধান করা হয়। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল এবং চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তারা তাদের সুপারিশ জমা দেয়।
এম







































