ফাইল ছবি
ঢাকা: নবম জাতীয় পে স্কেলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারেন নিম্ন গ্রেডের সরকারি কর্মচারীরা। নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সচিব কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় নিম্ন আয়ের কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র বলছে, দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কমিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় সহায়ক একটি বেতন কাঠামো তৈরির লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার। এ কারণে আলোচনায় থাকা বিকল্প প্রস্তাবগুলোর মধ্যে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি সুবিধা রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
বর্তমানে আলোচনায় থাকা দ্বিতীয় প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন দ্বিগুণ করার সুপারিশ রয়েছে। এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ১১তম গ্রেডের শিক্ষকদের বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক বেড়ে ২৫ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে। একইভাবে ১৬তম গ্রেডের অফিস সহকারীদের বেতন ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮ হাজার ৬০০ টাকা এবং ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়কদের বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ১৬ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত হতে পারে।
নীতিনির্ধারকদের মতে, মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর। ফলে নতুন পে স্কেলে তাদের জন্য বাড়তি সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে শুধু নিম্ন গ্রেড নয়, উচ্চ ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্যও বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। আলোচনায় থাকা প্রথম প্রস্তাব অনুযায়ী অধিকাংশ গ্রেডের মূল বেতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে চতুর্থ গ্রেডের অধ্যক্ষদের বর্তমান ৫০ হাজার টাকার বেসিক ৭৫ হাজার টাকা, ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপকদের ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৫৩ হাজার ২৫০ টাকা, সপ্তম গ্রেডের প্রধান শিক্ষক ও উপাধ্যক্ষদের ২৯ হাজার টাকা থেকে ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং নবম গ্রেডের প্রভাষকদের ২২ হাজার টাকা থেকে ৩৩ হাজার টাকায় উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন পে স্কেলের আওতায় প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্যও সমন্বিত বেতন কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত ২১ মে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত পুনর্গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশন, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে বেতন বৃদ্ধি, ভাতা কাঠামো এবং সরকারের বাজেট সক্ষমতার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আগস্ট বা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে গেজেট প্রকাশের পর চাকরিজীবীরা জুলাই থেকে বকেয়াসহ বর্ধিত সুবিধা পাবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে কোন প্রস্তাব চূড়ান্ত হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিভিন্ন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা শেষে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এখন পর্যন্ত আলোচনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
পিএস






































