• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

মৎস্য অধিদপ্তরের প্রকল্পে অনিয়মের ভূত

২ কোটি ৯০ লাখ টাকার মাছ ছাড়তে ব্যয় ৪৫ কোটি


নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২২, ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
২ কোটি ৯০ লাখ টাকার মাছ ছাড়তে ব্যয় ৪৫ কোটি

ছবি: এআই তৈরি

মাছের পোনা কিনতে ব্যয় হবে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা। অথচ সেই পোনা বাঁওড়ে ছাড়তে অন্যান্য খাতে খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা! অর্থাৎ পোনা কেনার তুলনায় অন্যান্য খাতেই খরচ হবে ১৫ গুণ বেশি। সহজ ভাষায়, এক টাকার পোনার বিপরীতে ১৫ টাকা খরচের অদ্ভুত প্রস্তাব দিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর।

যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ২৯টি বাঁওড়ে মাছের উৎপাদন ১০ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ‘নির্বাচিত বাঁওড় এলাকায় সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এই ৪৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের মোট ৪৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার ব্যয়ের মধ্যে পোনা কেনার জন্য রাখা হয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ১০ শতাংশ বা ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা। বাকি ৯৩ দশমিক ৯০ শতাংশ বা ৪৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকাই খরচ হবে অন্যান্য খাতে।

ইতোমধ্যে প্রকল্পটির নানা খাতের অস্বাভাবিক ব্যয় নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বাঁওড়ে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগটি ভালো হলেও এসি ও কম্পিউটারের মতো খাতের প্রস্তাবিত ব্যয় মাত্রাতিরিক্ত। এতে অনিয়মের বড় সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকল্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, মাত্র ৪টি কম্পিউটার কেনার জন্যই বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে প্রতিটি কম্পিউটারের গড় দাম পড়ছে ২ লাখ টাকা। তবে এসব কম্পিউটারের কনফিগারেশন বা যন্ত্রাংশের বিবরণ না থাকায় বাজারদরের চেয়ে অতিরিক্ত দাম ধরা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ছাড়া এসি ও ফটোকপি মেশিন কেনা, অফিস ভাড়া এবং সভা-সেমিনারের পেছনে বরাদ্দ নিয়েও স্পষ্ট তথ্য চাওয়া হবে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির বৈঠকে।

প্রকল্পে ২৯টি বাঁওড়ে রুই ও দেশি ছোট প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করে উৎপাদন ১০ শতাংশ বাড়ানোর কথা বলা হলেও বর্তমানে কত মাছ উৎপাদিত হয় কিংবা এই লক্ষ্যমাত্রার ভিত্তি কী, তার বিস্তারিত ডিপিপিতে উল্লেখ নেই।

পাশাপাশি ৫ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পে ৬টি পদে জনবল রাখার কথা বলা হলেও তাদের কাজের সুনির্দিষ্ট পরিধি এবং বেতন-ভাতার স্পষ্ট হিসাব অনুপস্থিত। প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. খালেদ কনক জানান, তিনি ডিপিপি না দেখে মন্তব্য করতে চান না। তবে ডিপিপি প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা সাহেদ আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এসএইচ 
 

Link copied!