ক্ষমতায় আসার আড়াই মাস পরও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-সমর্থিত ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আবাসিক হলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি-এমন দাবি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির কয়েক দশকের প্রচলিত রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে তুলনা করে বিরল ঘটনা বলেও মন্তব্য করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মীর সালমান।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশের বড় দুই শক্তিকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সেনানিবাস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতার ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। অতীতে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত করত। সেই প্রক্রিয়ায় নতুন কর্মী সংগ্রহ, সিট বণ্টন ও হলভিত্তিক প্রভাব বিস্তারের একটি অনানুষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে উঠেছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, হলভিত্তিক রাজনীতির কেন্দ্রে ছিল তথাকথিত গণরুম ও সিট বণ্টন পদ্ধতি। এক কক্ষে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী রাখার মাধ্যমে সংগঠনের প্রতি আনুগত্য তৈরি, পরে বিভিন্ন কক্ষে আসন বরাদ্দ নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত শিক্ষার্থী থাকার সুযোগ করে দেওয়ার মতো বিষয়গুলো অতীতে ছাত্ররাজনীতির বাস্তবতায় দেখা গেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসব অনুশীলনে নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা হয়েছে, ফলে আগের মতো সহজে প্রভাব বিস্তার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ছাত্রদলের সাংগঠনিক দুর্বলতা, নতুন কর্মী সংগ্রহে সীমাবদ্ধতা এবং হলভিত্তিক উপস্থিতির ঘাটতি নিয়ে দলটির ভেতরেই উদ্বেগ রয়েছে বলে জানা গেছে। কিছু ক্ষেত্রে বাইরের লোকজন এনে কর্মসূচি পালনের অভিযোগও উঠেছে, যা সংগঠনটির স্থায়ী ভিত্তি দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
এদিকে হলের আসন বরাদ্দ নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। পুরোনো শিক্ষার্থীদের সিট দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে সমালোচনা রয়েছে, যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে নীতিনির্ধারকদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি সহিংস ঘটনার অভিযোগও সামনে এসেছে, যেখানে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ ও ভাঙচুরের মতো ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্থিতিশীল ও সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে দলীয় প্রভাবের বাইরে গিয়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার এবং আইনশৃঙ্খলার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এসএইচ
*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব ভাবনার প্রতিফলন। সোনালীনিউজ-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে লেখকের এই মতামতের অমিল থাকাটা স্বাভাবিক। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য সোনালীনিউজ কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না। এর দায় সম্পূর্ণই লেখকের।







































