• ঢাকা
  • শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিবিরের একক আধিপত্যের নেপথ্যে কী?


নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিবিরের একক আধিপত্যের নেপথ্যে কী?

ফাইল ছবি

ঢাকা: ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে দীর্ঘ ১৬ বছর দমন-পীড়নের মাধ্যমে বিশ্ববিদল্যালয়গুলোতে বন্ধ ছিল ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রকাশ্য কার্যক্রম। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হিসেবে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচন উন্মুক্ত করে দেয়। এরই মাধ্যমে অপ্রকাশ্য থাকা ছাত্র সংগঠনগুলো কার্যক্রম করার সুযোগ পায়। প্রতি সংগঠন তাদের নিজস্ব দারুণ সব একটিভিটি দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে সাড়া ফেলে। ইসলামী ছাত্র শিবিরের কার্যক্রম ছিল চোখে পড়ার মতো।

এরই প্রেক্ষিতে যখন সবার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে ইসলামী ছাত্র শিবির শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করে নিরঙ্কুশ জয় পায়। এরপর জাকসু, চকসু, রাকসু এবং সর্বশেষ জকসুতেও ভূমিধস জয় পায় ছাত্র শিবির প্যানেল। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র শিবির প্যানের নিরঙ্কুশ জয়ের আসল রহস্য কী?

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের (শিবির) প্রার্থীদের সাফল্যের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত ও কৌশলগত কারণ দেখা যায়। বিষয়টি একমাত্রিক নয় বরং রাজনীতি, সংগঠন, ক্যাম্পাস বাস্তবতা সব মিলিয়েই এই ফলাফল আসে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ডাকসুতে ২৮ পদের মধ্যে ২৩টি পদে শিবির সমর্থিত প্যানেল জয়লাভ করে। এছাড়া জাকসুতে ২৫ পদের ২০টিতে চকসুতে ২৬ পদের ২৪টিতে, রাজসুতে ২৩ পদের ২০টিতে এবং সর্বশেষ জসকুতে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে শিবির সমর্থিত প্যানেল ২১টি পদের মধ্যে ১৬টি পদের জয় লাভ করে। 

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্র শিবিরের এই নিরঙ্কুশ সাফল্যের পেছনে বেশ কিছু কারণ বেরিয়ে এসেছে। কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো শক্ত সংগঠন ও শৃঙ্খলা: শিবিরকে অনেকেই দেশের সবচেয়ে ডিসিপ্লিনড ছাত্রসংগঠন হিসেবে দেখেন।

এই ছাত্র সংগঠনটির মধ্যে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব বণ্টনে স্পষ্টতা, ব্যক্তিগত আচরণ ও পড়াশোনায় নজর এসব বিষয় তাদের ক্যাডারদের আলাদা করে তোলে। ক্যাম্পাসগুলোতে বিভিন্ন শিক্ষার্থী বান্ধব কার্যক্রমের মাধ্যম সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের শিবিরের প্রতি আকৃষ্ট করে তোলে।

এছাড়াও ক্যাম্পাসে ধারাবাহিক উপস্থিতি: অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্য ছাত্রসংগঠনগুলো নিষ্ক্রিয় বা নির্বাচনের সময়মাত্র সক্রিয় হয়। তবে শিবির তুলনামূলকভাবে বছরজুড়ে হলে ও ক্যাম্পাসে কাজ করে এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও ব্যক্তিগত সমস্যায় পাশে থাকে।

ইমেজ রাজনীতি: শিবির নিজেদেরকে প্রেজেন্ট করে দুর্নীতিমুক্ত, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী, তুলনামূলকভাবে মার্জিত ভাষা ও আচরণে অভ্যস্ত। এই সব ইমেজ অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। বিশেষ করে যখন ক্যাম্পাসে সহিংস রাজনীতির অভিজ্ঞতা থাকে।

অন্য সংগঠনগুলোর দুর্বলতা: শিবিরের জয় অনেক সময় তাদের শক্তির চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের দুর্বলতার ফল হয়। যেমন দলীয় কোন্দল, কেন্দ্রীয় রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাব, ক্ষমতার অপব্যবহার বা দখলদারির অভিযোগ। অন্য সংগঠনগুলোর এসব দুর্বলতার কারণে শিবিরকে তার সাফল্য তুলে আনতে সহায়তা করে।

হল ও গ্রাসরুট কাজ: ইসলামী ছাত্রশিবির হলভিত্তিক নেটওয়ার্কে জোর দিয়ে থাকে। যেমন সিট সমস্যা, নোট, গাইড, একাডেমিক সহায়তা। এসব ছোট কিন্তু বাস্তব সহযোগিতা ভোটে প্রভাব ফেলে। এতে করেও শিবির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাফল্যের শীর্ষে উঠে এসেছে।

আদর্শভিত্তিক সমর্থন: একটি অংশের শিক্ষার্থী ধর্মীয় ও নৈতিক রাজনীতিকে সমর্থন করেন। বিশেষ করে যারা গ্রাম বা মফস্বল থেকে আসেন এবং পরিবারিকভাবে ধর্মীয় পরিবেশে বড় হয়েছেন। শিবির এসব শিক্ষার্থীদের মনের ভিতরে সহজেই ভালবাসার জন্ম দিতে পারে। যা সংগঠনটির সাফল্যের অন্যতম কারণ।

নির্বাচনী কৌশল: শিবির বিশ্বগুলোতে সীমিত কিন্তু টার্গেটেড প্রার্থী দিয়েছে। এতে করে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে থাকা এবং ভোটার টার্নআউট নিশ্চিত করে সংগঠনটি। এসব কারণেই শিবির অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলো থেকে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের মনের গভীরে স্থান করে নিয়েছে।

পিএস

Wordbridge School
Link copied!