• ঢাকা
  • শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ইরানে সরকার পতনের ডাক দেওয়া কে এই স্বঘোষিত ‘রাজপুত্র’ রেজা পাহলভি?


আন্তর্জাতিক ডেস্ক জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৯:২২ পিএম
ইরানে সরকার পতনের ডাক দেওয়া কে এই স্বঘোষিত ‘রাজপুত্র’ রেজা পাহলভি?

ইরানে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন সরাসরি সরকারবিরোধী গণআন্দোলনের রূপ নিচ্ছে। এই আন্দোলনকে আরও তীব্র করার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের ক্ষমতাচ্যুত রাজপরিবারের উত্তরসূরি ও স্বঘোষিত ‘রাজপুত্র’ রেজা পাহলভি।

বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রেজা পাহলভির ডাকে ইরানের বিভিন্ন শহরে কয়েক হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। তবে দেশটির প্রবাসীভিত্তিক গণমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছে, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা কয়েক লাখে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই দিনই দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয় তেহরান সরকার।

কে রেজা পাহলভি

রেজা পাহলভি হলেন ইরানের শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভির পুত্র। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে রাজতন্ত্রের পতনের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনে বসবাস করছেন। নিজেকে তিনি ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক ইরানের পক্ষে একজন রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবে তুলে ধরলেও ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী তাঁকে বিদেশি শক্তির ‘হাতিয়ার’ হিসেবে দেখে।

ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো হলি ড্যাগ্রেস বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, পাহলভির প্রকাশ্য আহ্বান বিক্ষোভের গতি ও ভাষা বদলে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার উৎখাতের ডাক নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে, যা আন্দোলনকারীদের মনোবল বাড়িয়েছে।

ইসরায়েল ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিতর্ক

রেজা পাহলভির ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। সম্প্রতি তিনি ইসরায়েলের বসতি আন্দোলনের নেতা ইয়োসি দাগানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানিয়েছে ওয়েস্ট এশিয়া নিউজ এজেন্সি। ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ফোরটিন সেই বৈঠকের ছবি প্রকাশ করেছে, যদিও আলোচনার বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে ২০২৩ সালে ইসরায়েল সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও বৈঠক করেন পাহলভি। সে সময় তিনি বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানি জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি নয়—এই বার্তা ইসরায়েলের জনগণের কাছে পৌঁছাতেই তাঁর সফর।

ট্রাম্প কী ভাবছেন

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বিক্ষোভকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি শক্তির ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক পডকাস্টে রেজা পাহলভিকে ‘ভদ্র মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করলেও সম্ভাব্য নতুন শাসক হিসেবে তাঁকে এগিয়ে রাখতে চাননি।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বোঝা যায়—যুক্তরাষ্ট্র এখনো পাহলভিকে সরাসরি সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেয়নি।

বিক্ষোভের পেছনের কারণ

গত কয়েক মাসে ইরানি রিয়ালের ভয়াবহ অবমূল্যায়ন সাধারণ মানুষের জীবনকে চরমভাবে প্রভাবিত করেছে। বর্তমানে ১ মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজারে, যেখানে এক বছর আগেও তা ছিল প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার।

ইরান আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় মুদ্রাস্ফীতির সরাসরি চাপ পড়েছে নিত্যপণ্যের দামে। এ কারণেই তেহরান থেকে শুরু হওয়া ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ দ্রুত ২৫টির বেশি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

শুধু অর্থনীতি নয়

আটলান্টিক কাউন্সিলের ইরান বিশেষজ্ঞ গিসসু নিয়ার মতে, অর্থনৈতিক সংকট বিক্ষোভের সূচনা ঘটালেও এটি মূল কারণ নয়। তাঁর ভাষায়, “বিক্ষোভের স্লোগান ও বিস্তার ইঙ্গিত দেয়—ইরানে শাসনব্যবস্থার প্রতি মানুষের গভীর ক্ষোভ জমে উঠেছে, যা এখন প্রকাশ্যে বিস্ফোরিত হচ্ছে।”

সরকারের কঠোর অবস্থান

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে আয়াতুল্লাহ খামেনি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিতে হামলা ও সহিংসতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ সক্রিয় ও রিজার্ভ সেনা রয়েছে, যার বড় অংশ ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অধীনে। বিশ্লেষকদের মতে, এই শক্ত সামরিক কাঠামোর কারণে ইরানে হঠাৎ শাসন পরিবর্তন সহজ নয়।

এম

Wordbridge School
Link copied!