• ঢাকা
  • শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

জোট ভাঙলেও দরজা বন্ধ নয়, অবস্থান আরও স্পষ্ট করল জামায়াত


নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
জোট ভাঙলেও দরজা বন্ধ নয়, অবস্থান আরও স্পষ্ট করল জামায়াত

ফাইল ছবি

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জোট ছাড়ার ঘোষণার পরদিনই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, আসন সমঝোতা, রাজনৈতিক আলোচনা কিংবা পারস্পরিক সম্পর্কের কোনো পর্যায়েই কাউকে অসম্মান করা হয়নি বা চাপ প্রয়োগ করা হয়নি। সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, বাস্তবতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার জামায়াতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে দুপুরে একক নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, মনোনয়ন দাখিলের পরও কিছু বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাকি থাকায় পর্যায়ক্রমে আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে লক্ষ্যে গঠিত লিয়াজোঁ কমিটি মাঠের বাস্তবতা, দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি, প্রার্থীর পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা, প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অবস্থানসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে একাধিক জরিপ পরিচালনা করে। আট থেকে দশটি জরিপ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিছু আসন এক দফায় ঘোষণা করা হলেও কয়েকটি বিষয়ে মতভিন্নতা থাকায় সময় নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা হয়েছে। গত কয়েক দিনে দীর্ঘ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়গুলো নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়।

তিনি বলেন, আসন বণ্টন ছিল সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ফল। কাউকে কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয়নি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে জামায়াত নেতাদের সাক্ষাৎ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে জুবায়ের বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর সহানুভূতি জানাতেই ওই সাক্ষাৎ হয়েছিল। সেখানে জাতীয় সরকার গঠন বা এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি। আলোচনার মূল বিষয় ছিল, বেগম জিয়া যে রাজনৈতিক ঐক্যের প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন, তা নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কীভাবে অব্যাহত রাখা যায়।

শরিয়া আইন চালুর অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় ও কূটনৈতিক প্রতিনিধির প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান ও বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যেই দেশ পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে কোনো দ্ব্যর্থতা নেই।

ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক জোট ছিল না। সংস্কার দাবিকে সামনে রেখে আটটি আন্দোলনরত দলের একটি নির্বাচনী ঐক্য প্রক্রিয়া ছিল। এখানে কোনো আহ্বায়ক বা স্থায়ী কাঠামো ছিল না। সভাপতিত্ব ও বক্তব্য ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে হয়েছে, যা একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির উদাহরণ।

ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে অসম্মানজনক আচরণের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট নেতার অসুস্থতা ও ভুলে যাওয়ার কারণে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়নি। এতে যে কষ্ট হয়েছে, সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। মানুষ হিসেবে এমন ভুল হতে পারে, একে অবজ্ঞা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

জোট ভেঙে গেলেও আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে বলে মনে করে জামায়াত। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় এখনো বাকি। ইসলামী দলগুলো ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের শক্তিগুলো যেন ঐক্যবদ্ধ থাকে, সে জন্য চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে লিয়াজোঁ কমিটি ও শীর্ষ নেতৃত্ব পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

এর আগে ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনে গাজী আতাউর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন প্রচলিত আইনে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে, যা ব্যর্থ হয়েছে। তাঁদের লক্ষ্য আল্লাহর আইন ও ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠা। প্রধান রাজনৈতিক শক্তি যদি সে লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে প্রচলিত আইনেই রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলে, তাহলে তাঁদের লক্ষ্য অর্জিত হবে না। তিনি বলেন, পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস ও সম্মানের জায়গা ভেঙে পড়লে জোট টিকে থাকে না।

এসএইচ 

Wordbridge School
Link copied!