• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭

চুড়িহাট্টার সেই হৃদয়বিদারক ঘটনার দুই বছর আজ


নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২১, ০৮:০১ এএম
চুড়িহাট্টার সেই হৃদয়বিদারক ঘটনার দুই বছর আজ

ঢাকা: রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টায় স্ত্রী আর দুই মেয়েকে নিয়ে সংসার পেতেছিলেন জহিরুল ইসলাম সুমন। সুখেই চলছিল জীবন। হঠাৎ এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এলোমেলো করে দেয় সব।

সেদিন ছিল ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি। ছোট মেয়ের জন্য ওষুধ আনতে ফার্মেসিতে গিয়েছিলেন সুমনের স্ত্রী বিবি হালিমা শিলা। সেই যে গেছেন, আর ফিরে আসেননি। চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ড অকালে কেড়ে নিয়েছে তাকে।

চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডে এমন অনেক হৃদয়বিদারক মৃত‌্যু ঘটে। সেদিন ৭১ জন নিহত হন। আহত হন অনেকে। কেউ হারিয়েছেন বাবাকে, কেউ হারিয়েছেন মাকে। ভাই বা বোনকে হারিয়েছেন কেউ কেউ। সংসারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন অনেকে।

চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের পর দুই বছরেও মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ নিহতের স্বজনরা। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অল্প সময়ের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হবে।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের উৎপত্তিস্থল ওয়াহেদ ম্যানশনের মালিকের দুই ছেলের অব্যাহতি চেয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।

তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এখন পর্যন্ত ১৬ বার সময় নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৮ জানুয়ারি এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু ওই দিন তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার পরিদর্শক কবীর হোসেন প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এজন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমাম আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার পরিদর্শক কবীর হোসেন বলেন, ‘মামলাটির তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। আনুষঙ্গিক কিছু কাজ বাকি আছে। এগুলো শেষ হলেই অল্প সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হবে।’

ওয়াহেদ ম্যানশনের মালিকের দুই ছেলে ছাড়া অন্য কেউ অভিযুক্ত হচ্ছেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা দেখছি বিষয়টা। যাহোক, যত দ্রুত সম্ভব চার্জশিট দেবো।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী মোস্তফা পাঠান ফারুক বলেন, ‘কেউ কি ইচ্ছে করে আগুন লাগাতে চায়। এতে তো আসামিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তারা অসহায়। নিঃস্ব হয়ে গেছে সবকিছু হারিয়ে। তারাও ভুক্তভোগী। বাড়িওয়ালা হওয়াটাই অপরাধ হয়েছে তাদের। বাড়িভাড়ার টাকা দিয়ে তাদের সংসার চলত। সেই বাড়িটাও নষ্ট হয়ে গেছে। মামলা চালানোর টাকা পর্যন্ত তাদের নেই। তাদের আম্মাও অগ্নিকাণ্ডে আহত হন। কোনোমতে তারা প্রাণ নিয়ে সেদিন বাড়ি থেকে বের হতে পেরেছেন।’

তিনি বলেন, ‘মামলাটি তদন্তাধীন। এখনও পুলিশ প্রতিবেদন আসেনি। আসামিরা জামিনে আছেন। তাদের শারীরিক, মানসিক, আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। বেঁচে থাকার জন্য হলেও তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত হলে আসামিরা নির্দোষ প্রমাণিত হবেন।’

মামলার বাদী আসিফ বলেন, ‘৭১ জন মানুষ পুড়ে মরার দুই বছর হয়ে গেল। এখনও তদন্ত শেষ করতে পারেনি পুলিশ। এর চেয়ে দুখের আর কিছু আছে? আমরা এতে হতাশ। বিচার কি আদৌ হবে? সেদিন আমি বাবাকে হারিয়েছি। বাবাকে ছাড়া চলা যে কী কষ্টের, তা টের পাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা অনেকে নিঃস্ব হয়ে গেছি। শুনেছি, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের জন্য সব ব্যাংক ৩০ কোটি টাকার মতো দিয়েছিল। আমরা কেউ কোনো সাহায্য পাইনি। তাহলে টাকাগুলো গেল কোথায়? আমরা না খেয়ে থাকলেও কেউ খোঁজ নেয় না। ২০ ফেব্রুয়ারি আসলে অনেকে খোঁজ নেয়। এরপর আবার ভুলে যায়। সরকার আমাদের দিকে নজর দিলে আমরা একটু ভালোভাবে বাঁচতাম। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।’

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডে ৭১ জন নিহত হন। আহত হন অনেকে। এ ঘটনায় আসিফ নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা চকবাজার মডেল থানায় ওয়াহেদ ম্যানশনের মালিকের দুই ছেলে সোহেল ওরফে শহীদ ও হাসানসহ অজ্ঞাত ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, আসামিরা তাদের চারতলা বাড়ির বিভিন্ন ফ্লোর দাহ্য পদার্থের গুদাম হিসেবে ভাড়া দেয়। দাহ‌্য পদার্থের কারণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।

সোনালীনিউজ/এইচএন