• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

বাসের ভাড়া ১৭ পয়সা বাড়লেও অতিরিক্ত ১০ টাকা আদায়ের অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
বাসের ভাড়া ১৭ পয়সা বাড়লেও অতিরিক্ত ১০ টাকা আদায়ের অভিযোগ

ফাইল ছবি

ডিজেলচালিত বাসের ভাড়া কিলোমিটারে মাত্র ১৭ পয়সা বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি হলেও রাজধানীর গণপরিবহনে চরম নৈরাজ্য দেখা দিয়েছে। নতুন ভাড়ার তালিকা না টাঙিয়েই চালক ও হেলপাররা যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো পাঁচ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে বাসকর্মীদের সঙ্গে যাত্রীদের প্রতিনিয়ত তর্কাতর্কি ও বাগবিতণ্ডা হচ্ছে। এমনকি কয়েকটি স্থানে হাতাহাতির মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

রাজধানীর মিরপুর, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার ও শাহবাগ এলাকা ঘুরে যাত্রীদের ভোগান্তির এই চিত্র দেখা গেছে। সাগুফতা মোড় থেকে মিরপুর-১০ নম্বর পর্যন্ত আগের ১০ টাকার ভাড়া এখন ১৫ টাকা চাওয়া হচ্ছে। একইভাবে শাহবাগ থেকে গাবতলী রুটে ২০ টাকার জায়গায় ৩০ টাকা এবং মোহাম্মদপুর থেকে মতিঝিল রুটে ২০ টাকার ভাড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। ওয়েলকাম, প্রজাপতি ও বিকল্প পরিবহনের মতো বাসগুলোতে অতিরিক্ত টাকা চাওয়ার অভিযোগ বেশি। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে অনেক যাত্রী বাড়তি টাকা দিয়েই গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন।

শুধু নগর পরিবহনই নয়, সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকার আন্তঃজেলা বাস কাউন্টারগুলোতেও দূরপাল্লার বাসে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঢাকা-কুয়াকাটা রুটে ২২০ টাকার পরিবর্তে ২৫০ টাকা, ঢাকা-নবীনগর রুটে ৩২০ টাকার বদলে ৩৫০ টাকা এবং ঢাকা-পিরোজপুর রুটে ৬৫০ টাকার জায়গায় ৭০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে হানিফ ও বিআরএমের মতো কয়েকটি পরিবহনে এখনো আগের ভাড়াতেই টিকিট বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে বড় বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা করা হয়েছে। মিনিবাসের ক্ষেত্রে তা ২ টাকা ৪৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৬০ পয়সা এবং দূরপাল্লার বাসে ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে ২ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত নিয়মে মহানগরীর বাসে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা এবং মিনিবাসে ৮ টাকা রাখা হলেও অধিকাংশ পরিবহনে নিয়ম না মেনে যাত্রীদের পকেট কাটা হচ্ছে। 

অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে কঠোর ব্যবস্থা ও রুট পারমিট বাতিলের হুঙ্কার দেওয়া হলেও বাস্তবে সড়ক বা বাসস্ট্যান্ডগুলোতে কোনো ধরনের তদারকি বা ম্যাজিস্ট্রেটদের অভিযান চোখে পড়েনি। তদারকির এই অভাবকে কাজে লাগিয়েই বাস মালিক ও চালকেরা যাত্রীদের ওপর বাড়তি ভাড়ার বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ পরিবহন ব্যবহারকারীরা।

এসএইচ 

Link copied!