• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৬ আশ্বিন ১৪২৮
abc constructions

আমল না করেও ৪ শ্রেণির মানুষের সাওয়াব-গোনাহ সমান


ধর্মচিন্তা ডেস্ক জুলাই ৩০, ২০২১, ০৮:৫১ এএম
আমল না করেও ৪ শ্রেণির মানুষের সাওয়াব-গোনাহ সমান

ঢাকা: হাদিসে পাকে ৪ শ্রেণির মানুষের বর্ণনা পাওয়া যায়। যাদের ২ শ্রেনির লোক সাওয়াবের ভাগিদার। আর ২ শ্রেণির লোক গোনাহগার। তাদের মাঝে আবার কেউ কাজ করার কারণে সাওয়াব পেয়েছে এবং গোনাহগার হয়েছে। আবার কেউ আমল না করেই নিয়তের কারণে সাওয়াব পেয়েছে এবং গোনাহগার হয়েছে। হাদিসের বর্ণনায় তারা কারা? তাদের আমল ও নিয়তিই বা কেমন ছিল?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে পাকে এমন ৪ শ্রেণির মানুষের আমল ও নিয়তের বর্ণনা তুলে ধরেছেন; যা উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য অনেক বড় শিক্ষাণীয় বিষয়। তাহলো-

হজরত আবু কাবশা আনমারী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘দুনিয়ায় ৪ ধরনের মানুষ আাছে। তারা হলো-

প্রথম প্রকার মানুষ : নেক আমলকরী

আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সম্পদ ও ইলম দান করেছেন। সে সম্পদের বিষয়ে তারা আপন রবকে ভয় করে, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে এবং তার সম্পদে আল্লাহর হক সম্পর্কে সে সচেতন। সে হল সর্বশ্রেষ্ঠ স্তরের মানুষ।

দ্বিতীয় প্রকার মানুষ : নেক আমলের নিয়তকারী

আল্লাহ তাআলা যাকে ইলম দিয়েছেন, সম্পদ দেননি; কিন্তু তার নিয়ত সহিহ বা বিশুদ্ধ। সে নিয়ত করে, আমার যদি তার (প্রথম ব্যক্তির) মতো সম্পদ থাকত তাহলে আমিও তার মতো নেক আমল করতাম। সে নেক নিয়তের কারণেই সওয়াব পাবে। সুতরাং উভয়ের সওয়াব সমান।

তৃতীয় প্রকার মানুষ : গোনাহকারী

আল্লাহ তাআলা যাকে সম্পদ দিয়েছেন কিন্তু ইলম দেননি। অজ্ঞতার কারণে সে সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহার করে। সম্পদের বিষয়ে আপন রবকে ভয় করে না, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে না এবং তার সম্পদে আল্লাহর হক সম্পর্কে সে সচেতন না। সে হল সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্তরের মানুষ।

চতুর্থ প্রকার মানুষ : গোনাহের নিয়তকারী

আল্লাহ যাকে ইলমও দেননি, সম্পদও দেননি; (কিন্তু তার নিয়ত খারাপ)। সে সংকল্প করে, আমার যদি মাল থাকত আমিও তার (তৃতীয় ব্যক্তির) মত কাজ করতাম। সে বদ প্রতিজ্ঞার কারণেই গোনাহগার হবে। তাই উভয়ের গোনাহ সমান।’ (তিরমিজি, মুসনাদে আহামদ)

উল্লেখিত হাদিসটি উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য অনেক বড় শিক্ষা। আমল-ইবাদত, দান-সাদকা কিংবা যে কোনো ভালো কাজ; পরিমাণে কম হোক যদি নিয়ত বিশুদ্ধ হয় তবে তা সাওয়াব বা মুক্তির জন্য যথেষ্ট। কেননা বিশুদ্ধ নিয়তের কারণেই মানুষ আমল-ইবাদতকারীর সমান সাওয়াব পায়। পাশাপাশি নিয়তের পরিশুদ্ধি না থাকলে ওই ব্যক্তিকে গোনাহগার হতে হয়।

সুতরাং এ হাদিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হল, সাধ্য না থাকা সত্ত্বেও সহিহ নিয়তের কারণে আল্লাহ সক্ষম ব্যক্তির আমলের মতই যেমন সাওয়াব দান করেন। তেমনি নিয়তের কারণেই গোনাহগার ব্যক্তির মতোই অন্য ব্যক্তিকে গোনাহগার হিসেবে সাব্যস্ত করে।

তাই মুমিন বান্দার একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো- সব সময় ইখলাসের সঙ্গে সাওয়াবের নিয়তে যে কোনো ভালো কাজ করা এবং ভালো কাজের ইচ্ছা পোষণ করা। খারাপ ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করা। গুরুত্বপূর্ণ এ হাদিসের আমলেই দুনিয়া ও পরকালে সহজেই নাজাত বা মুক্তি সম্ভব।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। সাওয়াবের কাজ করতে না পারলেও ভালো কাজের ইচ্ছা পোষণ করার তাওফিক দান করুন। মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সোনালীনিউজ/এইচএন

Haque Milk Chocolate Digestive Biscuit
Dutch Bangla Bank Agent Banking
Wordbridge School
Sonali IT Pharmacy Managment System